মোহাঃ আসলাম আলী, বাঘা : মহালয়া সামনে রেখে মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটির কাঠামো পেরিয়ে চলছে রং-তুলির অপেক্ষা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা।
পূজা সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট-বড় ৪৭ টি পূজামণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপ ও কারিগরদের ব্যস্ততা। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ ধাপে। মণ্ডপে মাটির প্রলেপ শুকানো হয়েছে। এখন চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এরপরই শুরু হবে রং ও তুলির কাজ।
উপজেলার দু’টি পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নে এবার ৪৭ টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৭ ইউনিয়নে ৩৪ টি ও বাঘা পৌর এলাকায় ১২টি, এবং আড়ানি পৌর এলাকায় ১৩টি মণ্ডপ রয়েছে।
বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর মাটি দিয়ে অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শিল্পীরা বলছেন, কখনে কখনো বৃষ্টির কারণে মাটি শুকাতে সমস্যা হলেও এখন রোদ ও আবহাওয়া সুস্ক হয়ে ওঠায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।
প্রতিমাশিল্পী শ্রী গনেশ চন্দ্র কুমার বলেন, এবছর বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতেই ৩২ হাজার টাকার মতো খরচ হয়ে যায়। ফলে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।
মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোও মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। পদ্মা বিধৌত এই জনপদে দুর্গোৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
বাঘা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব সাহা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করেন তিনি।
এদিকে, আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয়া দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে।

