অনলাইন ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুসারী সংখ্যা, গ্ল্যামার কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তাই কি এখন অভিনয়শিল্পীদের কাজ পাওয়ার প্রধান মাপকাঠি? দীর্ঘদিন ধরেই সিনেপাড়ায় ঘুরেফিরে আসছে এই প্রশ্ন। বলিউড থেকে টলিউড যোগ্যতার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমা ধ্যমের প্রভাবকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।
এবার সেই চলমান বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। অভিনয়জগতে প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে আসা সোহিনীর পথচলা শুরু হয়েছিল ছোটপর্দা দিয়ে। নিজস্ব অভিনয়শৈলী ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে বড়পর্দায় সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’। এতে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তর বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। ইতোমধ্যে ট্রেলারে সোহিনীর উপস্থিতি দর্শকদের মাঝে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে।
সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রজন্মের কাজের সুযোগ এবং শিল্পী বাছাইয়ের প্রবণতা নিয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, বর্তমান সময়ের অনেক নতুন শিল্পীই কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া অভিনয়জগতে চলে আসছেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সোহিনী বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে যারা নতুন কাজ করতে আসছেন, তাদের দেখে অনেক সময় মনে হয় যে তারা পুরোপুরি তৈরি হয়ে আসেননি।’
অতীত ও বর্তমানের কাজের পরিবেশের তুলনামূলক চিত্র টেনে তিনি আরও বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রীতিমতো পড়াশোনা করতেন, অথবা দিনের পর দিন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ শেখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এখন যার গ্ল্যামার সবথেকে বেশি, সে কাজ পায় বেশি। তবে আমার মনে হয়, শুধুমাত্র গ্ল্যামার দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি চলে না।’
নিজের মন্তব্যের পক্ষে সহ-অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তর দীর্ঘ পথচলার উদাহরণ তুলে ধরেন এই তারকা। সোহিনীর কথায়, ‘যিশুদা অনেক ছোটবেলা থেকে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আজকে তিনি এই জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। তাই আমার মনে হয়, শুধুমাত্র গ্ল্যামার থাকলেই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা যায় না, আগে দরকার যোগ্যতা।’

