অনলাইন ডেস্ক : ব্যাংক ধসের ঘটনায় গ্রাহকদের আমানত আটকে যাওয়ার পর ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দায়িত্বে অসদাচরণ ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সিনেট তাকে পদ থেকে অপসারণ করে। পরে তাকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই দিন নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, উয়েনো ব্যাংক ধসের কারণে দেশটির প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের সঞ্চয় ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। শুক্রবার সিনেটে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্যই পেনাকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। ১৯৮৯ সালে স্বৈরশাসক আলফ্রেদো স্ত্রোসনারের পতনের পর অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট তিনি।
পেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উয়েনো ব্যাংকে শত শত কোটি ডলারের সরকারি তহবিল বিনিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। এ সময় ব্যাংকটির ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ কার্যক্রম উপেক্ষা করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
গৃহবন্দি অবস্থায় রাজধানী আসুন্সিওনের নিজ বাসায় থাকতে হবে পেনাকে। শনিবার সকালে সরকারি কৌঁসুলিদের সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার। আস্থার অপব্যবহার, প্রভাব খাটানো ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি পদ ব্যবহারের অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে ৫২ বছর বয়সী পেদ্রো আলিয়ানা দেশটির ৫৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমানতকারীদের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকটির ওপর নির্ভরশীল একটি যাত্রী পরিবহন অ্যাপ বন্ধ হওয়ায় প্রায় তিন হাজার চালক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আটকে গেছে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য নেওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের ঋণও।
ব্যাংকটির গ্রাহকেরা সঞ্চয় ফেরত ও ঘটনার জবাবদিহি দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির অন্যতম বড় ব্যাংকে পরিণত হওয়া উয়েনোর সম্প্রসারণে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি সরকারি অর্থ ভূমিকা রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
