নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

হেমন্তে নতুন ধান কাটার ধুম, ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ

অক্টোবর ২৩, ২০২৩ ২:২৮ 👁️ ১৪৭ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : শরৎ শেষে এল হেমন্ত। হেমন্তের ‘প্রাণ’ নবান্নের আনন্দে আমন ধান কাটার ধুম লেগেছে ঠাকুরগাঁওয়ে। সোনালি ধান এখন ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকেরা। ইতিমধ্যে বাড়ির উঠোন ভরে উঠছে নতুন ধানে। চারদিকে ধানের ম-ম গন্ধ। এমন আনন্দ আর উৎসবে ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে পিঠা-পুলির নানা আয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  প্রতি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম হবে : ক্রীড়ামন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর, মোহাম্মদপুর, নারগুন, সালান্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গিয়ে দেখা যায়, গানে গানে মাঠে চলছে ধান কাটা, মাড়াই। প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে নতুন ধানের স্তূপ। অনেকের বাড়িতে চলছে সকালে ভাপা পুলি, তেল পিঠা, নতুন চালের পায়েস ও নাড়ু মুড়ির মুখরোচক খাবার।

জগন্নাথপুর এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, এবার বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ করে ধানের ফলন হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ার কারণে ধান কাটা-মাড়াই কিছুটা ধীরে হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় আনন্দ কাজ করছে।

কৃষক জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর আমন ধান কাটার মৌসুমে ধানের দাম ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা (শুকনা) মণ। এবার তাই ধান শুকিয়ে বিক্রি করবে। এতে দাম ভালো পাব আশা করছি।’

বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন ধান মাড়াই করে মেয়ে ও জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনকে নিমন্ত্রণ করি। এ সময় বাড়িতে নতুন চালের পিঠা-পুলি, ক্ষীর-পায়েস ইত্যাদি তৈরি করা হয়।’

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হলো আরো এক জোড়া ট্রেন- প্রতিদিন যাতায়াত করতে পারবে আরো প্রায় দেড় হাজার যাত্রী

একই এলাকার শাহেল বানু বলেন, ‘এ দিনে মেয়ের বাড়িতে নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠাপুলি পাঠাই। এবারও ঢেঁকিতে আতপ চাল গুঁড়ো করছি পিঠা পাঠানোর জন্য।’

সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকার রাস্তার পাশে ধান শুকাচ্ছেন নার্গিস বেগম। তিনি ওই এলাকার নাসিরুল ইসলামের স্ত্রী।

নার্গিস বেগম বলেন, ‘খেত থেকে ধান কেটে আনার পর বাড়ির উঠানে মাড়াই করছি। এরপর সব ধানই বিক্রি করে দিয়ে অল্প কিছু রাখছি পিঠা খেতে। ওই ধানই শুকাচ্ছি। প্রতি বছর নতুন ধান উঠলেই সেই ধানে চাল করে গুঁড়ো করি। নিজেদের গুঁড়ো করা চালে তৈরি পিঠা অনেক মজা হয়। পিঠা বানানোর দিন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা বাড়িতে আসেন। সবাই এক সঙ্গে বসে পিঠা বানাই।’

মাঠ থেকে ধান কেটে উঠানে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। ছবি: আজকের পত্রিকামাঠ থেকে ধান কেটে উঠানে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনোতোষ কুমার দে বলেন, সমৃদ্ধির ঋতু হেমন্ত যখন আসে বাংলায় তখন পল্লির কুটির থেকে প্রান্তর পাকা ধানের গন্ধে আমোদিত হয়ে ওঠে চারদিক। ফসল তোলার এই সময়টিতে মনে হয় বঙ্গ জননী তার দ্বার খুলে দেয়। আহ্বান জানায় ভাণ্ডার থেকে অন্ন সংগ্রহের জন্য। তাই প্রকৃতির ভাণ্ডার থেকে মুঠো মুঠো সুখ কুড়িয়ে নেওয়ার আয়োজনে মেতে ওঠে গ্রামবাসী। তবে যাঁদের জন্য এ সব আয়োজন সে কৃষকই ফসলের ফসলের ন্যায্যমূল্য পেলে সার্থক হবে
নবান্ন উৎসব।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এবার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে উৎপাদিত হবে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন ধান। সেই ধান থেকে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাঠে পুরোদমে আমন ধান কাটা হচ্ছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় এবার কৃষকেরা দারুণ খুশি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।