নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমেছে ১৭.৫ শতাংশ!!

অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১:২৮ 👁️ ৯ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মুনাফায় বড় ধরনের পতন হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) এসব ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে কর-পূর্ব মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুনর্বিনিয়োগ করা আয় কমেছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ। বিপরীতে বিদেশে মুনাফা ও আয় পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ। আমানত ও ঋণের তুলনায় উচ্চ তারল্য এবং শক্তিশালী মূলধন সক্ষমতা বজায় থাকলেও মুনাফা কমে যাওয়া ও খেলাপি ঋণের অনুপাত বৃদ্ধি বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।ব্যাংক সেবা নিন
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ২ হাজার ৮১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২১ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

একইভাবে কর-পূর্ব মুনাফা ৪ হাজার ৪৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ৬৩২ কোটি টাকায় নেমেছে। এ খাতে কমেছে ৮২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে পতন ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।রেট দেখুন

মুনাফার ওপর কর পরিশোধের পরিমাণও কমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে কর ছিল ১ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৫ কোটি ২০ লাখ টাকায়।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফার পাশাপাশি পুনর্বিনিয়োগ করা আয়েও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে পুনর্বিনিয়োগ করা আয় ছিল ২ হাজার ৮০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮০ কোটি ১০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে পুনর্বিনিয়োগ করা আয় কমেছে ৬২৩ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যদিকে, বিদেশে মুনাফা ও আয় পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এ বাবদ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল ১ হাজার ২৫২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭০ কোটি ১০ লাখ টাকায়। এতে এক বছরে বিদেশে মুনাফা ও আয় পাঠানো বেড়েছে ৩১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে লভ্যাংশ বাবদ বিদেশে অর্থ পাঠানোর কোনো পরিমাণ প্রতিবেদনে দেখানো হয়নি। আগের বছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে এ খাতে ৫৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছিল।

মুনাফা কমলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে এসব ব্যাংকের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের জুনে আমানত ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশও কমেছে। ২০২৫ সালের জুনে মোট ব্যাংক আমানতের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল বিদেশি ব্যাংকগুলোর দখলে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা ৪ দশমিক ২ শতাংশে এবং ২০২৬ সালের জুনে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  আইপিএলে নতুন ভূমিকায় যুবরাজ সিং

আমানতের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে। জুন শেষে এ দুই ধরনের হিসাবে আমানত ছিল ৩২ হাজার ৮০০ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা মোট আমানতের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
এক বছরে চলতি ও সঞ্চয়ী আমানত বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে, স্থায়ী আমানত ১৪ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা থেকে কমে ১২ হাজার ৬৬৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নেমেছে। এ খাতে পতন ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিদেশি মুদ্রায় আবাসিক আমানত বা আরএফসিডি বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে এ ধরনের আমানত ছিল ১৬ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮৮ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। তবে বিশেষ নোটিশ আমানত বা এসএনডি ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬০ কোটি ২০ লাখ টাকায় নেমেছে। অন্যান্য শ্রেণির আমানত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের জুনে তা ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। এক বছরে ঋণ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ঋণ ছিল ৪৬ হাজার ১২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ঋণ কার্যক্রমে কিছুটা পুনরুদ্ধার দেখা গেছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ ও অগ্রিমে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশ ২০২৫ সালের জুনের ২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছিল। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের বড় অংশই শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে কেন্দ্রীভূত। ২০২৬ সালের জুন শেষে শিল্প খাতে ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৪০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। আগের বছরের জুনে এ খাতে ঋণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এক বছরে শিল্প খাতে ঋণ বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ২১ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে এ খাতে ঋণ ছিল ১০ হাজার ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। এক বছরে বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
অর্থাৎ শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে সম্মিলিত ঋণ ৩৫ হাজার ৬৭৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এ চিত্র থেকে বোঝা যায়, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক লেনদেন।

ভোক্তা অর্থায়নে ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৭১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এ খাতে এক বছরে ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ছিল ৩ হাজার ৭৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

কৃষি, মৎস্য ও বন খাতে ঋণ ১ হাজার ২৬৭ কোটি ২০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে। এ খাতে এক বছরে প্রবৃদ্ধি ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও মোট ঋণে এ খাতের অংশ মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ, তবু ঋণ বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি।
অন্যদিকে, নির্মাণ খাতে ঋণ ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা হয়েছে। পরিবহন খাতে ঋণ কমে ১০ কোটি ১০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের মানে কিছুটা অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা সামান্য কমে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে আবার বেড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।
যদিও প্রতিবেদনে বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের অনুপাতকে দেশের ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি অংশের তুলনায় কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তারপরও এ বৃদ্ধিকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নজরদারির বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যারিকেড ও ফটক টপকে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ, ফের আটক সিজেপির শীর্ষ নেতারা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংকগুলো সাধারণত রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি এবং তুলনামূলকভাবে ভালো ঋণমানসম্পন্ন করপোরেট গ্রাহকদের ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী। এ ধরনের ঋণে নথিপত্র, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও অর্থ পরিশোধের কাঠামো তুলনামূলক শক্তিশালী হওয়ায় ঋণঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা তুলনামূলক শক্তিশালী। ২০২৬ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৯৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৮১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। এক বছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা অর্থের অংশ ছিল ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এ অংশ ছিল ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ওই বছরের জুলাই–ডিসেম্বরে ছিল ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বোনা পোশাক বা ওভেন গার্মেন্টস খাতে রপ্তানি আয় এসেছে ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ডলার, যা বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা মোট রপ্তানি আয়ের ৪৬ শতাংশ। নিটওয়্যার খাতে এসেছে ১৩৪ কোটি ৫৯ লাখ ডলার, যা মোটের ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ।ব্যাংক সেবা নিন

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে রপ্তানি আয় এসেছে ১৬ কোটি ৯১ লাখ ডলার। এ খাতে এক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যান্য পণ্য খাতে রপ্তানি আয় ছিল ৬১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও বহুমুখী রপ্তানিতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের লেনদেনেও এসব ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৬২ কোটি ২০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪০৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এক বছরে আমদানি পরিশোধ বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

দেশের মোট আমদানি পরিশোধের মধ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশ ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুনের ১১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। আগের বছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে এ অংশ ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।
আমদানি পরিশোধের বড় অংশ গেছে বস্ত্র ও বস্ত্রজাত পণ্য খাতে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে আমদানি পরিশোধ হয়েছে ৯২ কোটি ২২ লাখ ডলার, যা বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট আমদানি পরিশোধের ২০ শতাংশ।
অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি পরিশোধ বেড়েছে ৪০ দশমিক ১ শতাংশ। এ খাতে পরিশোধ হয়েছে ৩০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।ব্যাংক সেবা নিন

রাসায়নিক পণ্যে আমদানি পরিশোধ হয়েছে ৩১ কোটি ৮১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। প্লাস্টিক ও রাবারজাত পণ্যে ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার, যা বেড়েছে ১৬ শতাংশ।
তবে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে পরিশোধ কমেছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এ খাতে পরিশোধ হয়েছে ১৭ কোটি ৩২ লাখ ডলার। কাঁচা তুলা ও সুতা আমদানিতেও পরিশোধ কমেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮ ও ২ শতাংশ।

রপ্তানি আয় এবং আমদানি পরিশোধের তুলনায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছে ৩৯৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার, আর আমদানি পরিশোধ হয়েছে ৪৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে এ দুই লেনদেনের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, যা বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত পণ্যবাণিজ্যের হিসাবে ঘাটতি নির্দেশ করে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশি তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির জন্য জার্মানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৬২১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের জুন শেষে এ সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১ হাজার ৪০১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মোট সম্পদ বেড়েছে ৯ হাজার ২১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের জুন শেষে বেসরকারি খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর দাবি বা ঋণ-সম্পর্কিত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৭৭৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মোট সম্পদের ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে এ পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ৪৯১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
সরকারের ওপর দাবি ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৫ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা মোট সম্পদের ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ছিল ৩৫ হাজার ৬৯১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বিদেশি সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা মোট সম্পদের ৬ শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশের ব্যাংকগুলোতে রাখা স্থিতির পরিমাণ ১৫ হাজার ৫৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রপ্তানি বিলের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।রেট দেখুন

প্রতিবেদনে মোট সম্পদের বড় অংশ ‘অন্যান্য সম্পদ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে এ খাতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা মোট সম্পদের ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অন্যান্য সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আনুষঙ্গিক সম্পদ ও বিপরীত হিসাব হিসেবে নথিভুক্ত দায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২৬ সালের জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট দায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১০ হাজার ৬২১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে আমানত ছিল ৮২ হাজার ১৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা মোট দায়ের ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিবেদনের ব্যালান্স শিটের এই আমানত-সংক্রান্ত অঙ্কটি আমানতবিষয়ক পৃথক সারণির মোট অঙ্কের সঙ্গে এক নয়।

একই সময়ে বিদেশি দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা মোট দায়ের ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে বিদেশি দায় ছিল ৯ হাজার ৫২২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বিদেশি দায় বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ছিল ১ হাজার ২৮৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা মোট দায়ের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। মূলধন ও রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা মোট দায়ের ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে মূলধন ও রিজার্ভ ছিল ১৬ হাজার ৬৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
ঋণের বিপরীতে প্রভিশন বা সঞ্চিতির পরিমাণ বেড়ে ৩ হাজার ৩৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা হয়েছে, যা মোট দায়ের ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।ব্যাংক সেবা নিন

মুনাফায় পতন সত্ত্বেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতা শক্তিশালী রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা সিএআর ছিল ৪১ দশমিক ২১ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে এ হার ছিল ৪২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে অনুপাত কমলেও তা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

একই সময়ে কমন ইক্যুইটি টিয়ার-১ অনুপাত ছিল ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং টিয়ার-১ মূলধন অনুপাত ছিল ৩৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে এ দুটি অনুপাত যথাক্রমে ৪০ দশমিক ৭৮ ও ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছিল।

অন্যদিকে, সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার বা আরওএ ২০২৫ সালের জুনের ২ দশমিক ০৯ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের জুনে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের মূলধনের বিপরীতে মুনাফার হার বা আরওই একই সময়ে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।