স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী টিম অভিযান পরিচালনা করে ১৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আরএমপি’র বিশেষ মাদকবিরোধী টিম বোয়ালিয়া থানার কেদুর মোড় নদীর ধার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মো: রবিউল ইসলাম রবির ছেলে মো: রুবেল আলী (৩০)-কে গ্রেপ্তার করলেও মো: রবিউল ইসলাম রবির স্ত্রী মোছা: তসলিমা খাতুন (৫০) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। এসময় রুবেলের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামি পরস্পরের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাটাখালী, কাশিয়াডাঙ্গা, চন্দ্রিমা, শাহমখদুম, পবা ও মতিহার থানা পুলিশের পৃথক পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে এসকাফ সিরাপ, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ১০ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসাথে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৬টার দিকে কাটাখালী থানা পুলিশ নওদাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মতিহার থানার মোহনপুর চকপাড়া গ্রামের মো: হারুনুর রশীদের ছেলে মো: তৌহিদুল ইসলাম (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তৌহিদুলের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ০১ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ একই তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হড়গ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হড়গ্রাম নতুনপাড়া গ্রামের মো: জামিলের ছেলে মো: ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল (৩০); একই গ্রামের মো: শরিফুল ইসলামের ছেলে মো: জিন্নাহ (৩২)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একই গ্রামের মো: রুহুল আমিনের ছেলে মো: সুজন হোসেন (৩২) কৌশলে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত থেকে ও পলাতক আসামির ফেলে যাওয়া বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা মোট ১৯০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে ইকবাল ও পলাতক আসামি সুজনের সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
অপরদিকে, চন্দ্রিমা থানা পুলিশ একই তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৬টার দিকে খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম নামাপাড়া গ্রামের মৃত মজিবরের ছেলে মো: আমির হোসেন (২৭)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় আমিরের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
তাছাড়াও শাহমখদুম থানা পুলিশ একই তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে নওদাপাড়া আমচত্ত্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসাম কলোনী (বউ বাজার বুড়ির বাড়ি) গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে মো: সাগর আলী (৩৬); শিরোইল রেলওয়ে কলোনী গ্রামের মো: ইউনুস আলীর ছেলে মো: ফারুক আলী (৩৪) এবং আসাম কলোনী (বউ বাজার বুড়ির বাড়ি) গ্রামের মো: মামুনের ছেলে মো: সাব্বির হোসেন ওরফে আকাশ (৩১)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের হেফাজত হতে মোট ১৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেইসাথে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উল্লেখ্য, আসামি সাগরের বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় ৩টি মাদক মামলা এবং আসামি সাব্বিরের বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় ২টি মাদক ও ১টি পেনাল কোড আইনে মামলা রয়েছে।
এছড়াও পবা থানা পুলিশ গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে তরফ পারিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মো: আজাহার আলীর ছেলে মো: বাবু হোসেন (৫৪)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় বাবুর হেফাজত থেকে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্যে, আসামি বাবুর বিরুদ্ধে পবা থানায় ১টি মাদক মামলা রয়েছে।
এছাড়া মতিহার থানা পুলিশ একই তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নতুন বুধপাড়া গ্রামের মো: জালাল উদ্দিনের ছেলে মো: জিল্লুর রহমান ওরফে রনি (৩৯) এবং টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানার নারান দিয়া গ্রামের মো: মনির উদ্দিনের ছেলে মো: সুজন (২৬)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের হেফাজত হতে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা মোট ৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি রনির বিরুদ্ধে আরএমপি’র বিভিন্ন থানায় ৫টি মাদক ও ১টি পেনালকোড আইনে মামলা রয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী টিম অভিযান পরিচালনা করে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। সেইসাথে মাদক বিক্রির নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে আরএমপি’র বিশেষ মাদকবিরোধী টিম বোয়ালিয়া থানার জিরো পয়েন্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মতিহার থানার দাশমারি গ্রামের মো: নুরুল ইসলামের ছেলে মো: মানিক চাঁদ সওদাগর (৩৫); চর শ্যামপুর মিজানের মোড় গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে মো: সাব্বির হোসেন (২০) এবং দাশমারি গ্রামের পাঞ্জাতন আলীর ছেলে মো: সাদ্দাম হোসেন (১৯)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় মানিকের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৫৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেইসাথে মাদক বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ৬৭০ টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সাব্বির ও সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে মানিকের সহযোগি হিসেবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

