স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে পরিবারের গৃহকর্ত্রীর নামে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও নির্ভুল তালিকা তৈরি করতে হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের সততা, নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
এ সময় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ সহজ ও গতিশীল করতে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের হাতে উন্নত মানের ট্যাব তুলে দেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
প্রশিক্ষণার্থীদের গুরুত্বসহকারে প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এমপি মিলন বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় দলমতনির্বিশেষে সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও দলগত কাজের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা তৈরির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসংগ্রহকারীরা সঠিকভাবে এ কাজ সম্পন্ন করতে পারলে রাষ্ট্রকে মেরামতের যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তাতে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
এমপি মিলন আরও বলেন, নতুন প্রজন্মসহ যাঁরা এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতে পারে। কেউ কেউ তথ্য দিতে সহযোগিতা করতে না-ও চাইতে পারেন। আবার অতীতে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কারও মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব থাকতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটার পরিচয়পত্র যাচাই করে প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
প্রশিক্ষণে জানানো হয়, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে পবা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের জরিপ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে নওহাটা পৌরসভা, পারিলা ইউনিয়ন এবং হড়গ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনজন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্যসংগ্রহকারী দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্যসচিব আব্দুল রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন।

