নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নভেম্বর ১, ২০২৬ ২:৩৪ 👁️ ৩৭ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে আর কোনো দিন স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা স্বৈরশাসকের উৎপত্তি হতে না পারে, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে যাতে তা টেকসই হয়।

আরও পড়ুনঃ  ফেসবুক থেকে আয় করতে চান, জেনে নিন কীভাবে

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পাহারা দেওয়ার জন্য কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

মন্ত্রী শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় শেরেবাংলা নগরস্থ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্ব— ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  তানজিন তিশার প্রশ্ন, ক্যারিয়ার ও সম্মান ধ্বংসের চেষ্টা কারা করছেন?

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে। তিনি বলেন, পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা ছিল বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদী শক্তি উত্থানের মূল কারণ। যা পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল, যেখানে এদেশের ছাত্র-জনতা একতাবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটায়।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের পরবর্তী রাজনৈতিক ধারাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে জাতীয় অভিপ্রায় (People’s Will) প্রতিফলিত হয়। বিচার বিভাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারকদের কেবল স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়, বরং আইনের মাধ্যমে তাঁদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো অঙ্গই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক না হয়ে ওঠে। উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনি ব্যবস্থা (পিআর পদ্ধতি) ও গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনার বিষয়ে বিরোধী দলসহ সকল পক্ষের সাথে টেবিল-আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বজুড়ে সাইবার ঝুঁকি, চরম হুমকিতে বাংলাদেশের তথ্যভান্ডার

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চাই না। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের পারস্পরিক ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য। #

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।