নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

রাবিতে খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শিক্ষক-সাংবাদিকসহ আহত ১০

নভেম্বর ১৮, ২০২৪ ৯:৫০ 👁️ ৪০ views
Link Copied!

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগ ও মার্কেটিং বিভাগের মধ্যে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলায় স্লেজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমান এবং ওই দুই বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  পুঠিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, এবং জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে মারধর ও ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমি ভবনের দুই পাশে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহতদের মেডিকেলে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া মার্কেটিং বিভাগের সভাপতির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে রাউন্ড-১৬ এ মার্কেটিং বিভাগ ও আইন বিভাগের খেলা হয়। এতে মার্কেটিং বিভাগ ১ গোলে বিজয়ী হয়৷ খেলা চলাকালে উভয় পক্ষের দর্শক স্টেডিয়ামে অবস্থান করছিলেন। গোল হওয়ার এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ একে-অপরকে ‘ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করলে বাকবিতণ্ডা বাধে। খেলা শেষে আইন বিভাগ আগে স্টেডিয়াম ত্যাগ করে। পরে মার্কেটিং বিভাগ বের হয়। কিন্তু স্টেডিয়াম গেটে ফের উভয় পক্ষের কিছু শিক্ষার্থী বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুনঃ  চারঘাটে পুকুর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

এ সময় ইটের আঘাতে আইন বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুর রহমান এবং ওই বিভাগের তানজিল ও তোফায়েলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও কেউ আহত হয়েছেন কিনা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক বণিকবার্তা পত্রিকার ক্যাম্পাস সাংবাদিকের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে এবং তার ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করেন মার্কেটিং বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু বলেন, আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে আছি। আমাদের শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামানকে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে লাইন কেটে দেন।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে ৮ মাসে ২০০ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা

আহত সাংবাদিক আবু সালেহ শোয়েব বলেন, আমিসহ কয়েকজন সাংবাদিক প্রেসক্লাবের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিছিল শোডাউন নিয়ে ফার্স্ট সায়েন্স বিল্ডিং পার হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখে ভিডিও করার জন্য ফোন বের করতেই ওই বিভাগের আনুমানিক ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী আমার দিকে ধেয়ে এসে মারধর শুরু করেন। আমি সাংবাদিক পরিচয়ে আইডি কার্ড দেখালে সেটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

আমার কলার চেপে ধরে ফোন থেকে জোর করে ভিডিও ডিলিট করানো হয়। আমার সঙ্গে প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।