নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-চীনের যৌথ সহযোগিতায় রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফিরে আসবে

আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৫:৩৪ 👁️ ১১৬ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের রেশম শিল্পের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং একে একটি আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের রেশম শিল্পের আধুনিকায়নে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আগ্রহী বলে তিনি জানান। সেই লক্ষ্যে রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ-চীনের যৌথ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সভাকক্ষে রেশম গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের রেশম উন্নয়ন বোর্ড এবং চাইনিজ ঝিজিয়াং সি-টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাবিতে রেলপথ অবরোধ, আগুন

চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্র সম্মেলনটির আয়োজন করে এবং সহযোগিতা করে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড।

রেশম গবেষণায় চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ আগ্রহী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সহনশীল উন্নত মানের তুঁত গাছ এবং রেশম কীটের হাইব্রিড জাত উদ্ভাবনে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এছাড়াও আধুনিক রেশম রিলিং, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই শিল্পকে যান্ত্রিকীকরণের আওতায় আনা হবে।

শরীফুল আলম বলেন, রাজশাহীর রেশম কেবল একটি শিল্প নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের অংশ। সরকার আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো তুঁত চাষ থেকে শুরু করে রেশম গুটি উৎপাদন, সুতা কাটা, বয়ন এবং বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে একটি সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব ভ্যালু চেইন তৈরি করা।

তিনি বলেন, চীনের বাজার বাংলাদেশের রেশম শিল্পের জন্য সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। বিশ্বের অন্যতম বড় রেশম উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ চীনের বাজারে বাংলাদেশি রেশমের আলাদা অবস্থান তৈরি করতে পারলে এর সুফল সরাসরি পৌঁছাতে পারে রাজশাহীর রেশম চাষি, তাঁতি ও উদ্যোক্তাদের কাছে। মানসম্মত রেশম সুতা ও কাপড় উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক নকশা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন কৌশল গ্রহণ করা গেলে ‘রাজশাহী সিল্ক’ আন্তর্জাতিক বাজারে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিক সাইদুর রহমানের ইন্তেকালে, রাজশাহী এডিটরস ফোরামের শোক

রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘রাজশাহী সিল্ক বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এ শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে রেশম শিল্পকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্য নিয়েছে। রাজশাহীর রেশম শিল্পে উৎপাদনের চিত্রও আশার কথা বলছে। ২০১৮ সালে পুনরায় চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারখানায় মোট ৫৯ হাজার ৪৬৮ মিটার রেশম কাপড় উৎপাদিত হয়েছে। কারখানার নিজস্ব শোরুমে ঐতিহ্যবাহী গরদ শাড়ি, প্রিন্টেড শাড়ি, পাঞ্জাবির কাপড় ও বলাকা সিল্কসহ বিভিন্ন উন্নতমানের রেশম পণ্য সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে রেশম পণ্যের চাহিদা বাড়াতে দেশের বড় বড় চেইন শপগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের কাছে সিল্কের কাপড় সহজলভ্য হয়।

অধ্যাপক নুসরাত জাহান নিপার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি জানান, চীনের একটি মিউজিয়ামে বাংলাদেশের রেশম ও পাট পণ্যের উপস্থাপনা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  রুয়েটের সাথে আইআইবিএ বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

এসময় প্রতিমন্ত্রী সম্মেলনে আগত চীনা প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.সাখাওয়াত হোসেন।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ঝেজিয়াং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক ও ভাইস ডিন অধ্যাপক জু কিউজি এবং চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প উদ্যোক্তা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক নুসরাত জাহান নিপা। অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে চাইনিজ ঝিজিয়াং সি-টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা, রেশম শিল্প মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ, উদ্যোক্তা, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, এমপি এবং চাইনিজ ঝিজিয়াং সি-টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজশাহী রেশম কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে একই স্থানে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ব্রিফিংএ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং চাইনিজ ঝিজিয়াং সি-টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।