মোঃ আব্দুস সামাদ, পঞ্চগড় : উপজেলার বিভিন্ন গাছের নার্সারিতে ঘুরে দেখা যায় ফলজ ও বনজ গাছের পাশাপাশি উৎপাদিত হয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউক্যালিপটাস গাছ।আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে নার্সারি মালিকগণ হোমডেলিভারীর মাধ্যমে এই গাছের চারা সরবরাহ শুরু করেছেন।
গাছ প্রকৃতির রক্ষা কবজ, গাছ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। গাছ ছাড়া মানুষের অস্থিত্ব রক্ষা করা কঠিন। গাছ কেবলমাত্র ফুল- ফল, জ্বালানি কিংবা আসবাবপত্র দেয় না বরং গাছ মানুষকে দিয়ে থাকে প্রতি সেকেন্ডে শ্বাস গ্ৰহনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। যা মানুষ প্রতিনিয়ত গ্রহণ করে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে পক্ষান্তরে গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে কিন্তু প্রকৃতিতে এমন কিছু রাক্ষুসে গাছ রয়েছে যে গাছগুলো অক্সিজেন ত্যাগ করার বিপরীতে প্রকৃতির ক্ষতি সাধন করে।তার মধ্যে অন্যতম হলো বিশাল আকৃতি দানবীর ইউক্যালিপটাস গাছ। পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করে যার ফলে মাটির আদ্রতা ও উর্বরা শক্তি কমে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে আসে। এই গাছের আশেপাশে সহশায় অন্যান্য গাছের শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি লাভ করতে পারে না, ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং এই গাছের পাতা ও শিকড় থেকে নির্গত টক্সিন নামক হরমোনের কারণে আশেপাশের অন্যান্য গাছের চারা সহসায় জন্মাতে পারে না। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পরিবেশ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ।কিন্তু পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন গাছের নার্সারিতে ইউক্যালিপটাস গাছ বাজারজাত করণের লক্ষ্যে উৎপাদন করা হয়েছে এবং অনেকেই গোপনে তাদের কাছ থেকে চারাগাছ সংগ্রহ করে রোপন করছে। উল্লেখ যোগ্য ব্যাপার হলো উপজেলার প্রায় সকল গ্ৰামের চারিদিকে তাকালে শতকরা নব্বই ভাগ এই দানবীর ইউক্যালিপটাস গাছের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এ ব্যাপারে পরিবেশ ও বন কমকতার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায় যে পাবলিক নার্সারিতে উৎপাদিত নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের চারা ধ্বংস করার ব্যাপারে সরকার কর্তৃক কোন নির্দেশনা নেই।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা আটোয়ারী উপজেলার সভাপতি আব্দুস সোবহান বলেন, এই গাছ আমাদের বৈচিত্র্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই গাছের ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরা অব্যাহত রেখেছি।
আমাদের সচেতনতাই পারে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে তাই আসুন আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন করা বিরত থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বনজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপন করি যা আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা নিবারণ করা সহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক।

