স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং পেশাগত অসতর্কতার কারণে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও চোখের গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে চোখের সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম আরও বলেন, চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। অথচ বিশ্বে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ বিভিন্ন মাত্রার দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশেও এ ধরনের সমস্যা উদ্বেগজনক। তাই যে পেশাতেই নিয়োজিত থাকুন না কেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চোখের সুরক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।
শিশুদের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিভিল সার্জন বলেন, বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শিশুরা দৃষ্টিসংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাব ব্যবহারের কারণে তাদের চোখের ওপর চাপ পড়ছে। আগে সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে চশমা ব্যবহারের প্রবণতা বেশি দেখা গেলেও এখন শ্রেণিকক্ষেও অনেক শিশুকে চশমা ব্যবহার করতে দেখা যায়। শিশুদের এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
তাদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা এবং নিয়মিত চোখের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পেশাগত কারণে চোখের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবছর ধান কাটার মৌসুমে অনেক কৃষক ধানগাছ বা পাতার আঘাতে চোখে গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কর্নিয়ায় ক্ষত, কর্নিয়ার আলসার কিংবা চোখে ছানি পড়ার মতো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এসব ঝুঁকি এড়াতে কাজের সময় চোখের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চোখের যত্ন ও সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এবং ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও ভিশনস্প্রিংয়ের সহযোগিতায় র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির রাজশাহী বিভাগের ব্যবস্থাপক আরিফ আহমেদ। তিনি বলেন, চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর আওতায় সক্ষম দম্পতি, গর্ভবতী নারী ও প্রসূতি মা, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ ও টিকাদান এবং ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের বিভিন্ন রোগ ও চক্ষুসেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির রাজশাহী জেলার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল বাশার, ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির পবা উপজেলার ব্যবস্থাপক আল মামুন এবং ভিশনস্প্রিংয়ের সহকারী প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক তন্ময় কুমার।

