নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের গুরুতর অভিযোগ!

অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২:২১ 👁️ ১১ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সৌদি আরব। সৌদিতে সম্প্রতি ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের আক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে তেহরান মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রিয়াদ।
সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক দাবি করেছেন, সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক আক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে মদত দিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান তাদের উৎসাহিত করছে। এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং বেইজিংয়ে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির লঙ্ঘন।

সৌদি আরবের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সংঘাতের এই পর্যায়ে হুথিদের আক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে ইরানের উৎসাহ রয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ  বিটিসিএল সার্ভারে ত্রুটি, সরকারি-বেসরকারি বহু সাইট খুলছে না

ক্রিমলি জানান, তেহরান ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং বেইজিং চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে হুথি মিলিশিয়াদের অস্ত্র সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সেই চুক্তির কথা উল্লেখ করেন, যার অধীনে সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে এবং পরস্পরের দেশে দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশন পুনরায় খোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সৌদির এই কূটনীতিক জানান, ইরান-সমর্থিত হুথিরা ওমানে আলোচনার জন্য সৌদি আরবের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর করা এবং ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে আনা।
ক্রিমলির ভাষ্য, মিলিশিয়ারা প্রস্তাবিত এই বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর। এমনকি মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য; ব্যর্থ যুদ্ধবিরতির পথে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুনঃ  ভূমিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের সাক্ষাৎ

ইরান হুথিদের সহায়তা অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও ক্রিমলি জানান, রিয়াদ তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরব ইরানের কাছে কোনো মধ্যস্থতার অনুরোধ করেনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছি। এ ক্ষেত্রে ওমান কেবল আলোচনার সহায়ক হিসেবে কাজ করছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়।’

ক্রিমলি রাশিয়া ও চীনের সম্পৃক্ততার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তিনি জানান, এই দেশগুলো ইরান ও হুথিদের এমন সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে, যা তাদের সহায়তা করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই সহায়তার কিছু অংশ হয়তো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও আসতে পারে।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, ইরান ও হুথিদের কিছু সক্ষমতা—অথবা গোয়েন্দা তথ্য—রাশিয়া বা চীনের কোনো কোনো পক্ষ থেকে আসে; এমনকি কখনো কখনো বাণিজ্যিক পক্ষ থেকেও আসতে পারে। তবে আমরা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিতভাবে এসব বিষয়ে আলোচনা করি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।’

আঞ্চলিক সমন্বয়ের বিষয়ে ক্রিমলি জানান, সৌদি আরব গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র—যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে—তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টার প্রসঙ্গে ক্রিমলি বলেন, সৌদি আরব পাকিস্তান ও কাতারের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দুটি বড় বাধা এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম বাধাটি হলো—হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা, যার বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে।

দ্বিতীয় বাধাটি হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে যে আলোচনা হবে, তার পরিধি ও কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বোঝাপড়ায় পৌঁছানো।

ক্রিমলি বলেন, তেহরান পর্যাপ্ত ছাড় না দিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৫

ক্রিমলি বলেন, ‘উভয় ক্ষেত্রেই, ইরান নতুন কোনো প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ফিরে আসতে অনেক অনেক সময় নেয়; আর তারা যে প্রস্তাব নিয়ে আসে, তা-ও যথেষ্ট নয়। এরপর তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা বা অন্যান্য বিষয়ে অস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। ফলে এসব নিয়ে আলোচনা করতেই আমাদের কখনো কখনো সপ্তাহ বা মাস পার হয়ে যায়।’

তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।
ক্রিমলি বলেন, ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে তারা সম্ভবত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না।’
সূত্র: এপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।