নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

প্রথমবার রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৭:৫৩ 👁️ ৮৩ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : কর্মসংস্থানের সংকট কাটিয়ে শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাওয়া, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ- রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এখন এসব ঘিরে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানির সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিতে গতি আনার দাবি দীর্ঘদিনের। সেই প্রত্যাশার সামনে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। তাঁকে বরণ করতে প্রস্তুত নগরী, সম্পন্ন হয়েছে জনসভাস্থলের আয়োজনও। রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও শিল্পায়নের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজশাহীর তরুণদের সবচেয়ে বড় চাওয়া কর্মসংস্থান। এর পাশাপাশি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আব্দুল্লাহিক কাফী নামের এক যুবক বললেন, রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের জন্য বড় সমস্যা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার প্রত্যাশা- এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।‘

আরও পড়ুনঃ  এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

আব্দুল্লাহ আল মামুন ওয়াসিফ নামের আরেকজনের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। শিক্ষানগরী হিসেবে রাজশাহীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বাড়াবেন। একই সঙ্গে নগরীকে আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেবেন।

 

খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির নামের আরেক শিক্ষার্থী বললেন, রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন বলে তাঁরা আশা করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বললেন, গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে স্ট্যাটিক ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সেক্টরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে।

 

তিনি জানালেন, বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত সড়ক নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক দিয়ে চলাচল করবেন এবং যেসব স্থানে অবস্থান করবেন, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের বিভাজকে নতুন রং, পুরোনো স্থাপনায় রঙের প্রলেপ এবং বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজের মাধ্যমে নগরীকে সাজানো হয়েছে। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে তৈরি হয়েছে ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৫ ফুট প্রস্থের মঞ্চ। মাঠ ও আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক মাইক এবং চারটি এলইডি স্ক্রিন। আয়োজনের বিশেষ দিক হলো- মঞ্চ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার বাইরে মাঠে কোনো ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ড রাখা হয়নি।

সোমবার সকালে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।

আরও পড়ুনঃ  শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গোদাগাড়ীর ৪২টি মণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

মাঠ পরিদর্শনকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রাজশাহীর সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। এই মাঠেই তিনি নির্বাচনী প্রচারের শেষ বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবার সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর আগমনকে ঘিরে নগরবাসীর প্রত্যাশাও অনেক।

রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিটন বললেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, বন্ধ রেশম কারখানা চালু এবং হাইটেক পার্ক নতুনভাবে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্যোগের অগ্রগতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে আরও কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আম সংরক্ষণে আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং পদ্মার পাড়ে নতুন স্মৃতিসৌধ বা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবি জানালেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। এসব পদক্ষেপ রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা ও নাগরিক সেবা উন্নত করার কাজ অব্যাহত রাখার কথাও জানান রিটন। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে রাজশাহীকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তাঁদের।

রাজশাহীর কৃষি ও শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বললেন, রাজশাহীর অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষি। তাই কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, আখচাষিদের সহায়তা এবং কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আখচাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। মিনুর মতে, রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চালু এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা গেলে কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। পাশাপাশি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশু হাসপাতাল চালু, ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে বিরতিহীন ট্রেন চালু, কলকাতার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং চার লেনের বাইপাস সড়ক নির্মাণ এ অঞ্চলের চিকিৎসা, যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২২

তিনি রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া চিনি ও রেশমশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জন্য সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন ভূমিমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আরেকটি উদ্দেশ্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া। মিনু জানালেন, দেশের স্বার্থ সবার আগে। দল ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সকালে সামরিক বিমানে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন শেষে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। দুপুর দেড়টায় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজশাহী সার্কিট হাউসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেবেন।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সেখানে রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর। এক দিনের সফরে তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, এই সফরের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পদ্মা ব্যারাজ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও শিল্পায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে অগ্রগতি আসবে। সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের দিকেই এখন তাকিয়ে তাঁরা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।