নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৯:২৩ 👁️ ১৩ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাড়তি সময়কে প্রস্তুতির কাজে লাগাতে সরকার সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন

সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরএফ ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ধাপ বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে। এরপর জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) উত্তরণের সময় তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও বাংলাদেশের বাড়তি সময় পাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে। ২৪ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিন বছর সময় চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না। অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের চেয়ে উত্তরণকে রাজনৈতিকভাবে মহিমান্বিত করার চেষ্টা হয়েছে। ফলে উত্তরণের সুবিধা কাজে লাগানো এবং সম্ভাব্য অসুবিধা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরিতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বাড়তি সময় পাওয়া গেলে তা কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মডেলকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
ইইউর বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতিও চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো, জিএসপি প্লাস সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার আগেই ইইউর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা। এ ছাড়া আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসেপ) চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছ আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং রপ্তানির জন্য বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  পদোন্নতিপ্রাপ্ত সচিবগণ রাজশাহীবাসীর গর্ব : ভূমিমন্ত্রী

অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও ফি পরিশোধ করে দেশ-বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

জ্বালানি সংকটকে নতুন বিনিয়োগের অন্যতম বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজ করা এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সমন্বিত লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোস্তফা আবিদ খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএসএম মঈনুল হক।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।