নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, অধিকাংশই মাদক সংক্রান্ত

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:১৪ 👁️ ৭ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরবে ২০২৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা আবারও আলোচনায় এসেছে। হত্যা, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অপরাধে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যান বলছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সবচেয়ে বড় অংশই ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে। এ সময়ে এ ধরনের অপরাধে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে হত্যা মামলায় ২৫ জন এবং হত্যা না থাকা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বারনই নদী পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বার্তা সংস্থা এএফপির সরকারি ঘোষণাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে এ বছর ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ১৮ অক্টোবর পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও এসেছে।

মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বেশি

ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (ইএসওএইচআর)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে মোট ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের মধ্যে ৭১ জন মাদক সংক্রান্ত অপরাধে, ২৫ জন হত্যার দায়ে, ৯ জন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অপরাধে এবং তিনজন অন্যান্য অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন। অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিল মাদক সংক্রান্ত অপরাধে।

সংস্থাটির হিসাবে, ওই সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৯ জন সৌদি নাগরিক। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিদেশি নাগরিক রয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গত ২২ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পর্যন্ত সৌদি আরবে ৯৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ৬১ জন মাদক সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

আরও পড়ুনঃ  নেত্রকোণায় শারদীয় দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ পুলিশ সুপারের

কোন অপরাধে কী শাস্তি

সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা শরিয়াহভিত্তিক বিধান এবং বিভিন্ন লিখিত আইন ও রাজকীয় আদেশের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অপরাধের ধরন, প্রমাণ, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ওপর শাস্তি নির্ভর করে। তাই সব অপরাধের জন্য একই ধরনের বা পূর্বনির্ধারিত শাস্তি প্রযোজ্য নয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাদক পাচার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করানো এবং বিদেশ থেকে মাদক এনে বিতরণের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথমবার অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি দেওয়া হতে পারে। পুনরায় একই অপরাধ করলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে।

ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে কিসাসের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এ ব্যবস্থায় আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব। তবে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা আইনি শর্ত অনুযায়ী ক্ষমা করলে বা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলে মামলার পরিণতি বদলাতে পারে।

সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো গুরুতর অপরাধেও মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ ছিল।

আরও পড়ুনঃ  তানোরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ইউএনও নাঈমা খানের নিয়মিত পরিদর্শন

অন্যদিকে চুরি, প্রতারণা, মদ বা মাদক সেবন এবং অন্যান্য অপরাধে শাস্তি অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। এসব অপরাধে কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তি হতে পারে। তবে চুরির মতো নির্দিষ্ট অপরাধে শরিয়াহর বিশেষ শর্ত পূরণ হলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইন ও মানবাধিকার নিয়ে বিতর্ক

মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থাটি সব অপরাধের ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।

ইএসওএইচআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৮৩ জনের অপরাধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ ছিল না। সংস্থাটির মতে, এ চিত্র মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির সরকার মৃত্যুদণ্ডকে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার একটি উপায় হিসেবে দেখে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি—আপিলের সব সুযোগ শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আরএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।