মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক নাঈমা খান দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে তিনি সার্বক্ষণিক সচেতন রয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তানোর পৌরসভার তালন্দ মন্দির, তালন্দ জমিদারবাড়ি মন্দির ও হরিদেবপুর মন্দির পরিদর্শন করেন ইউএনও নাঈমা খান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান। তাঁরা পূজার আয়োজন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্যাপনে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, তানোরের সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এবার মোট ৫৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
পূজামণ্ডপে নিয়মিত পরিদর্শন ও খোঁজখবর নেওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে পূজা উদ্যাপন করছেন। স্থানীয় জনগণের অনেকেই ইউএনও নাঈমা খানের এ তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নাঈমা খানের মতো দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যেক উপজেলায় থাকা প্রয়োজন। তাঁর নিয়মিত পরিদর্শন, দ্রুত যোগাযোগ এবং নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
ইউএনও নাঈমা খান বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। উৎসব চলাকালে অনলাইনে মিথ্যা প্রচার, গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ অনলাইনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তা যাচাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার না করার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের সদস্যরা মনে করেন, দুর্গোৎসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ইউএনও নাঈমা খানের নেতৃত্বে তানোরে পূজামণ্ডপগুলোতে যে নজরদারি ও সমন্বয় চলছে, তা প্রশংসনীয়। তাঁদের মতে, প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।
দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

