নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

ইউরোপে গুগল ক্লাউডে বিভ্রাট

অক্টোবর ২০, ২০২৬ ৭:০৫ 👁️ ১২ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপে বড় অংশে গুগল ক্লাউডের সেবায় বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় অনলাইন ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে পুলিশের অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার লন্ডনে গুগল ক্লাউডের একাধিক সেবায় সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল ব্যাংক রেভল্যুটসহ বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবায়।
গুগল ক্লাউডের সেবা সংক্রান্ত ওয়েবপেইজে বলা হয়েছে, লন্ডনভিত্তিক ‘ইউরোপ-ওয়েস্ট২’ ডেটা সেন্টারে সমস্যার কারণে একাধিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। গুগলের প্রকৌশলীরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের কারণে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে গুগল। তবে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট বিভ্রাটের কারণ নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।

এই বিভ্রাটের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে ব্রিটিশ ডিজিটাল ব্যাংক রেভল্যুট। ব্যাংকটির স্ট্যাটাস পেইজের তথ্য অনুযায়ী, তাদের কার্ড পেমেন্ট থেকে শুরু করে এটিএম থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের মত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেভল্যুট এই সাময়িক অসুবিধার কথা স্বীকার করে বলেছে, আমরা বর্তমানে একাধিক পরিষেবায় বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, তাদের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রেভল্যুটের এই সমস্যার মূল কারণ গুগল ক্লাউডের বিভ্রাট।

আরও পড়ুনঃ  এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান

কেবল রেভল্যুট নয়, এই প্রযুক্তি বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে এইচএসবিসি, লয়েডস ব্যাংক এবং ডেলিভারি সেবাদাতা ডিপিডির মত বড় কোম্পানির ওপরও।
এছাড়া জার্মানির আইএনজি ব্যাংক জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্রাহকরা তাদের অনলাইন ব্যাংকিং এবং অ্যাপে লগ-ইন করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন। তবে বাংলাদেশে এই বিভ্রাটের প্রভাব পড়ার কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট লিখেছে, মঙ্গলবারের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থা মূলত মুষ্টিমেয় কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর কতটা নির্ভরশীল।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে ওয়েবসাইট বা অ্যাপগুলোর সামনের দিকের চেহারা পরিচিত হলেও, সেগুলোর পেছনে থাকা বিশাল ক্লাউড অবকাঠামো মূলত গুটিকয়েক কোম্পানির হাতেই নিয়ন্ত্রিত।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে পুলিশের অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ক্লাউড কম্পিউটিং বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস)। এছাড়া মাইক্রোসফট অ্যাজিউরের দখলে রয়েছে ২০ শতাংশ এবং গুগল ক্লাউডের হাতে রয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ বাজার।
মেটা (ফেসবুক), অ্যাপল, স্পটিফাই ও স্ন্যাপের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোও তাদের বিশাল ডেটা ট্রাফিক সামলাতে গুগল ক্লাউডের মত সেবার ওপর নির্ভরশীল।

এ ধরনের কেন্দ্রীভূত অবকাঠামো ব্যবহারে ওয়েবসাইটগুলোর খরচ বাঁচে এবং কারিগরি সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু এর ঝুঁকিও ব্যাপক।
গুটি কয়েক সার্ভারের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার কারণে যে কোনো একটি কোম্পানির ক্লাউড সেবায় ত্রুটি দেখা দিলে মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ অচল হয়ে পড়তে পারে। এর আগে এডব্লিউএস এবং ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো কোম্পানির ক্ষেত্র্রেও এমন ঘটনা ঘটেছিল।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।