নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

রাজশাহীতে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা, ঢাকের বাদ্যে দুর্গার বিদায়

অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৫:১৮ 👁️ ৪৬ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর পূজামণ্ডপ। কোথাও দেবীর চরণে শেষ অঞ্জলি, কোথাও সিঁদুর খেলায় মাতোয়ারা নারীরা। হাসি-আনন্দের সেই মুহূর্তেও চোখেমুখে বিদায়ের বিষাদ। একদিকে উৎসবের রং, অন্যদিকে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা। এমন আবেগঘন পরিবেশে বুধবার বিজয়া দশমীতে রাজশাহীতে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

আরও পড়ুনঃ  নাচোলে শারদীয় দুর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা আব্দুল সালাম ও নাসিরুল ইসলাম

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকে। দেবীর বিহিত পূজা, অঞ্জলি ও নানা ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর কাছে মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন ভক্তরা। পরে বিবাহিত নারীরা মেতে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায়। ঢাকের তালে আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।

নগরীর ষষ্ঠীতলা আদি কালিস্থান দুর্গামন্দিরে সকাল থেকেই ভিড় করেন শত শত নারী। তাঁদের বরণের থালায় ছিল সিঁদুর, পান, ফুল ও মিষ্টি। কারও হাতে ছিল শঙ্খ, প্রদীপ ও কলস। একে একে দেবীর কাছে গিয়ে তাঁরা সিঁদুর পরান। দেবীর মুখে ছুঁইয়ে দেন মিষ্টি। এরপর একে অপরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে ভাগ করে নেন উৎসবের আনন্দ। নাচে-গানে আর দেবীর জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।

রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পুরোহিত বিদ্যুৎ কুমার মজুমদার বলেঝেন, বুধবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে দেবী দুর্গার দশমী বিহিত পূজা শুরু হয়। পূজার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার শেষে দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হয়। ভক্তরা দেবীর চরণে শেষ পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।

আরও পড়ুনঃ  সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ এবং ছুটি, নিরাপত্তা ও আনন্দ-উৎসবে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দশমীর অন্যতম আকর্ষণ সিঁদুর খেলা। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ কুমার মজুমদার বললেন, সনাতন ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, বিবাহিত নারীরা স্বামীর দীর্ঘায়ু ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় এ আয়োজনে অংশ নেন। দেবীকে সিঁদুর নিবেদন এবং পরস্পরের মধ্যে সিঁদুর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাঁরা এই প্রথা পালন করেন।

সকাল সাড়ে ১০টার পর শুরু হয় সিঁদুর খেলা। প্রথমে দেবীকে সিঁদুর পরান নারীরা। এরপর একে অপরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। কেউ নাচে-গানে মেতে ওঠেন, কেউ দেবীর নামে জয়ধ্বনি দেন। উৎসবের এই আয়োজনে যোগ দেন নানা বয়সী ভক্ত।

নগরীর নবরূপ পূজামণ্ডপেও ছিল একই চিত্র। বেলা ১১টার দিকে হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। একদিকে চলছিল বিদায়ী আরতি ও দেবীর চরণে শেষ অঞ্জলি। অন্যদিকে মণ্ডপের মাঠে নাচে-গানে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা। ঢাকের তাল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবার রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিঁদুর খেলায় নারীদের পাশাপাশি অংশ নেন পুরুষ, তরুণ ও শিশুরাও। অনেক স্বামীকে স্ত্রীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে সংসারের মঙ্গল কামনা করতে দেখা যায়। আনন্দের মধ্যেও দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মনে ছিল বিষাদের ছায়া।

রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার বলেছেন, রাজশাহীতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে পূজার আয়োজন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের সূচনা হয়। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে দুর্গোৎসব। পাঁচ দিনের এই আয়োজন শেষ হয় বিজয়া দশমীতে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানান ভক্তরা।

ধর্মীয় বিশ্বাসে, পুত্র-কন্যাদের নিয়ে দেবী ফিরে যান কৈলাসে। রেখে যান আনন্দ, স্মৃতি আর আবার ফিরে আসার প্রত্যাশা। তাই বিদায়ের বেদনার মধ্যেও ভক্তদের মনে অপেক্ষা—নতুন শরতে আবারও আসবেন মা দুর্গা। মর্ত্যলোক ভরে উঠবে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উৎসবের আনন্দে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।