অনলাইন ডেস্ক : যে কারণে ভারতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় এনে কাতার রাজধানী দোহায় স্বাক্ষরিত হলো চার জাতির একটি নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক বা ‘বদর চুক্তি’ (Badr Memorandum of Understanding)। তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য—প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময়, সামরিক গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণ জোরদার করা। চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নিজ নিজ সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসের ঐতিহাসিক ‘বদর যুদ্ধ’ এবং এর আরবি অর্থ ‘পূর্ণিমার চাঁদ’-এর সাথে মিলিয়ে এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ‘বদর’। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির মাধ্যমে চার দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সামরিক চাহিদাও মেটানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে, তুরস্কের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি, সাঁজোয়া যান এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের সাথে ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের উৎপাদন সক্ষমতা এবং কাতারের বিশাল আর্থিক বিনিয়োগ এই চুক্তিকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে পরিণত করতে পারে।
ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ-
এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে, বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান তার সামরিক আধুনিকায়ন এবং অস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে এককভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প বা বহুমুখী উৎস খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
তাছাড়া, ইন্দোনেশিয়ার এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ নতুন কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করেছে। কারণ, এর কিছুদিন আগেই ভারতের সাথে সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ফলে জাকার্তার এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান নয়া দিল্লির কৌশলগত নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। যদিও ‘বদর’ চুক্তিটি মূলত একটি সামরিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার রূপরেখা—যেখানে ন্যাটো-রীতির কোনো যৌথ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা (Mutual Defence Pact) নেই, তবুও বিগত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সউদী আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র সাথে এটি আঞ্চলি নিরাপত্তায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

