নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

আয়ুতে ভারত-পাকিস্তানকে টপকাচ্ছেন বাংলাদেশি নারীরা

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৬:২৯ 👁️ ১১ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি বাঁচেন বাংলাদেশি নারীরা। ছবি: এআই
মাটি, পানি, বায়ুসহ নানারকম দূষণে জর্জরিত। হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, স্ট্রোক আর সড়ক দুর্ঘটনার মতো নানা ঝুঁকি। তারপরও এগিয়ে বাংলাদেশের নারীরা।

আরও পড়ুনঃ  ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নতুন গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটসে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের নারীদের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭৪ দশমিক ৪ বছর। পুরুষদের চেয়ে তা ৩ দশমিক ৩ বছর বেশি। আর এই সংখ্যাটি ভারত ও পাকিস্তানের নারীদের তুলনায় অনেকটাই ভালো।

ডব্লিউএইচওর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৭ বছর। ভারতের ৭১ বছর এবং পাকিস্তানের ৬৮ দশমিক ২ বছর। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি দিন বাঁচছেন। আর এই সাফল্যের বড় অংশটুকু এসেছে নারীদের হাত ধরে।

২০২২ সালেও একই চিত্র ছিল। ওই বছর বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৪ দশমিক ১ বছর, পুরুষদের ৭১ বছর। বাংলাদেশের নারীদের এই অগ্রযাত্রা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার এক অনুপ্রেরণার গল্প।

আরও পড়ুনঃ  কাদের দই খাওয়া ঠিক নয়

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আয়ুতে সবচেয়ে এগিয়ে মালদ্বীপ (৭৯ দশমিক ৪ বছর)। এরপর শ্রীলঙ্কা (৭৬ দশমিক ২ বছর)। বাংলাদেশ তৃতীয়। সবচেয়ে কম আয়ু মিয়ানমারে (৬৯ দশমিক ৪ বছর)। ভারত ও পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে।

উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ৭৮ দশমিক ৫ বছর, কানাডায় ৮১ দশমিক ৪ বছর। কিন্তু সেই ফারাকও কমছে ধীরে ধীরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমেছে। টিকাদান কর্মসূচি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সচেতনতা বৃদ্ধি—এসবই বাংলাদেশি নারীর আয়ু বাড়িয়েছে।

এছাড়া নারীদের ধূমপান ও মদ্যপানের হার কম, যা হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমায়। নারীদের জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা তাঁদের দীর্ঘায়ুতে ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। এরপর সিওপিডি বা ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্ট্রোক, সড়ক দুর্ঘটনা, যক্ষ্মা ও ক্যানসার। পুরুষদের মধ্যে এসব রোগে মৃত্যুর হার নারীদের তুলনায় বেশি।

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণও হৃদরোগ। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক মৃত্যুর ১৬ শতাংশের জন্য দায়ী এই রোগ। ২০০০ সাল থেকে হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ লাখ বেড়েছে।

বাংলাদেশের নারীরা দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, পুষ্টির অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছেন। তারপরও তারা আয়ুতে ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছেন। এটি এক দিকে যেমন স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির প্রমাণ, তেমনি নারীর অদম্য সংগ্রামের ফসল।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।