নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

বাড়ি দখল করে ব্যারাক বানাচ্ছে ইসরায়েল

অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৫:৪৪ 👁️ ১০ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে সামরিক অভিযান জোরদার করে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখলে নিয়ে সামরিক ব্যারাক ও পর্যবেক্ষণ চৌকি স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের অংশ হিসেবে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। শহরজুড়ে অবরোধ, সড়ক বন্ধ, বাড়িঘরে তল্লাশি ও আটকের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর কঠোর

বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সময়ে হেবরনের দক্ষিণে ইয়াত্তা এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমিতে দুটি নতুন দখলদার বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেথলেহেমেও টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক ও প্রবেশপথ বন্ধ রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি রিজার্ভ ঘাঁটিতে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে এই অভিযান শুরু হয়। ওই দুই ফিলিস্তিনিও নিহত হন। এরপর শহরটিতে অবরোধ আরোপ করে শত শত অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৪৭ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার মানুষ।

অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খান ইউনিস, দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটিতে বিমান ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ৫৪৪ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯২ জন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা বন্ধ হয়নি। ওই সময় থেকে নতুন করে নিহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের খাল্লাত মান্না ও দাহিয়াত আল-জাইতুন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখলে নিয়ে ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েলি বাহিনী। অন্য কয়েকটি এলাকার বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে সেগুলো পর্যবেক্ষণ চৌকিতে পরিণত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

হেবরন পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের আইন দেইর বাহা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় ৩৫০ ডুনাম বা ৩৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে এ অভিযানের প্রভাব পড়েছে। সেখানে প্রায় ৫০০ ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মানবাধিকার গবেষক হিশাম আল-শারবাতি আলজাজিরাকে বলেন, সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপকে একটি ফিলিস্তিনি আবাসিক এলাকার ওপর পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ অভিযান হিসেবে দেখা যায়। তার ভাষায়, সেখানে যা ঘটছে, তা জাতিগত নির্মূলের একটি রূপ। ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর এ ধরনের সমষ্টিগত শাস্তি যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হেবরন পশ্চিম তীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ফিলিস্তিনি শিল্প উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং রপ্তানির ৩০ শতাংশের সঙ্গে শহরটির অর্থনীতি যুক্ত। ফলে শহরটির ওপর অবরোধ ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনৈতিক গবেষক আহমেদ আবু কামার আলজাজিরাকে বলেন, হেবরন ফিলিস্তিনের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী। বিস্তৃত শিল্প ও বাণিজ্যিক ভিত্তির কারণে পশ্চিম তীরের অর্থনীতিতে শহরটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরটির ওপর বিধিনিষেধ, প্রবেশপথ বন্ধ কিংবা সামরিক অভিযান পুরো পশ্চিম তীরের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী সীমান্তে বিপুল পরিমান ভারতীয় ক্যাপ্টেন মদ জব্দ

১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তির আওতায় শহরটিকে দুটি অংশে ভাগ করা হয়। এইচ-১ এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা। অন্যদিকে শহরের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ে গঠিত এইচ-২ এলাকায় ইসরায়েলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়। সেখানে প্রায় ৭ হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। তাদের দৈনন্দিন জীবন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিধিনিষেধের মধ্যে পরিচালিত হয়।

শহরের পুরনো অংশে কয়েকশ ইসরায়েলি দখলদারের উপস্থিতিও ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ এসব বসতির আশপাশে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে বন্ধ এলাকা সম্প্রসারণ করেছে।

১৯৯৪ সালে একজন মার্কিন-ইসরায়েলি দখলদার মসজিদের ভেতরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে ২৯ ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করেন। ওই ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্থাপনাটিকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করে এবং আশপাশের এলাকায় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ ইব্রাহিমি মসজিদ ও আশপাশের এইচ-২ এলাকার পরিকল্পনা এবং নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর ফলে ওই এলাকায় ফিলিস্তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকির ক্ষমতা আরও সংকুচিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বাতিল করেছেন বলেও স্মোত্রিচ ঘোষণা দেন।

পশ্চিম তীরের পাশাপাশি গাজা উপত্যকায়ও ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। খান ইউনিস, গাজা সিটি ও দেইর আল-বালাহ এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের আল-সিনা এলাকায় মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন আরও চারজন। কাছাকাছি আল-মাওয়াসি এলাকায়, যেটিকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নারী-শিশুসহ কয়েকজন আহত হন।

গাজা সিটির পশ্চিমে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। উত্তর গাজা সিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিমান হামলায় তিনজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও দিয়েছে আলজাজিরা।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৩২

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে আট বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। শহরটির পূর্বে আল-মাজরা এলাকায় সেনাবাহিনীর হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় ১০ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা অন্তত ৭৪ হাজার ৫৪৪। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯২ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও হাসপাতালগুলোতে চারজন নিহত ও ১৪ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে নতুন করে অন্তত ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

গাজায় হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামাসের সামরিক শাখার এক কমান্ডার এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এক যোদ্ধা পৃথক হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার গাজা সিটিতে চালানো হামলায় হামাসের সামরিক শাখার কমান্ডার আলা ইব্রাহিম নিমের আরশি নিহত হন। এর আগের দিন নুসেইরাতে হামলায় নিহত হন ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধা কারাম রিয়াদ হাসান আবু বুতাইহান।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযোগ, তারা দুজনই ইরান ও তুরস্ক থেকে হামাসের সামরিক শাখায় অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার মধ্য গাজায় হামাসের অস্ত্রের গুদাম বলে চিহ্নিত তিনটি স্থাপনায় বোমা হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।