নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৫২ 👁️ ৭০ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানির আরও একটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। পুরো পরিবহন কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক তত্ত্বাবধান করে।

আরও পড়ুনঃ  ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেস পেলেও ‘চূড়ান্ত ক্ষমতা’ আমার হাতে : ট্রাম্প

এ নিয়ে এ পর্যায়ে রূপপুর প্রকল্পে মোট পাঁচটি চালানে ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছেছে। এর আগে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চারটি চালান এসেছিল। শুক্রবার পঞ্চম চালানটি পৌঁছায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি সরবরাহ করা হচ্ছে। মোট নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। বাকি চালানগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পোশাক খাতের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ

২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২৯ ও ৩০ অক্টোবর এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে অথবা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পৌঁছেছে। এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হলে উৎপাদিত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে। এর মাধ্যমে জেনারেটর চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষার সফলতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমিউনিটি ডায়লগ

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে কিংবা ভাল্ব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ একাধিকবার পরীক্ষা ও মেরামত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় সন্তুষ্ট হওয়ার পরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির দুটি ইউনিট সম্পূর্ণভাবে চালু হলে সেখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়ী ও কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।