নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষা মূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৪:১৫ 👁️ ২৬ views
Link Copied!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রমের অনুমোদন পাওয়ার পর সি স্টেজের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ ধাপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আরও পড়ুনঃ  বাঘায় দিনব্যাপী উদ্যোক্তা সম্মেলন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সি ধাপে প্রবেশের মধ্য দিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)-এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (এনপিসিবিএল) পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি শুরুর অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্টেজ -সি হলো ইউনিট-১-এর কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে বিভিন্ন প্ল্যান্ট সিস্টেমের কার্যক্ষমতা ও সমন্বিত পরিচালনা পরীক্ষা ও যাচাই করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টর, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সিস্টেম, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ইন্সট্রুমেন্টেশন ও কন্ট্রোল, রিঅ্যাক্টর প্রোটেকশন এবং সেফটি সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমসমূহ। রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে। বিশেষভাবে টারবাইন কন্ট্রোল ও প্রোটেকশন সিস্টেম, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  গোদাগাড়ীতে লগি-বৈঠার তাণ্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

স্টেজ-সি এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো নির্ধারিত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ইউনিট-১-এর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সিঙ্ক্রোনাইজ করা এবং স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে অগ্রসর হওয়া।

এ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও কমিশনিং শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এ পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সির অনুমোদন এবং কার্যক্রমের সূচনা বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সকল কার্যক্রমে নিউক্লিয়ার সেফটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এ সময়সীমা নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফল, কমিশনিং কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণের ওপর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পাওয়ার স্টার্টআপ, জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু—এগুলো পৃথক তিনটি ধাপ। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, কমিশনিং কার্যক্রম এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব শর্ত পূরণ করতে হবে। তাই পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমোদন পাওয়ার অর্থ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া নয়।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ পরিবার পেল ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।

রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও অন্যান্য আর্থিক কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।