পিন্টু আলী, চারঘাট : রাজশাহী জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা চারঘাট। পদ্মা ও বড়াল নদী বেষ্টিত এই পৌরসভাটি ভৌগোলিক কারণে আজও অনেকটা পিছিয়ে। চাষাবাদের জমি কম, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এখানকার সাধারণ মানুষ। ঠিক এমন একটি জনপদে আলোর মশাল হাতে এগিয়ে এসেছেন এক তরুণ সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী – আসাদুজ্জামান জুয়েল।
জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি গত কয়েক বছর ধরে যে কাজ করে যাচ্ছেন, তা অনেক জনপ্রতিনিধির কাজকেও হার মানায়। নিজস্ব অর্থায়নে তিনি চারঘাট উপজেলা প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার সহায়তার তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার ও হাঁটার লাঠি, দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ছাগল, মুরগি, ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও রিকশা বিতরণ, গৃহহীনদের ঘরের জন্য ঢেউটিন, সিমেন্টের খুঁটি, টিউবওয়েল স্থাপন, নারীদের জন্য সেলাই মেশিন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর কেমোথেরাপির সম্পূর্ণ খরচ বহন, জরুরি রক্তের ব্যবস্থা এবং যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারঘাট উপজেলা মেরামতপুর, নিমতলা, বালুদিয়ার সহ বিভিন্ন মহল্লায় এসব সুবিধা পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন অসহায় পরিবারগুলো।
একজন সুবিধাভোগী বৃদ্ধা বলেন, “আমার একটা ঘর ছিল না, জুয়েল বাবা টিন আর খুঁটি দিয়ে ঘর তুলে দিয়েছে। আল্লাহ তার ভালো করুক।”
স্থানীয় তরুণরা জানান, “আমাদের ক্লাবে খেলার কোনো সামগ্রী ছিল না। জুয়েল ভাই বল দিয়েছে, জার্সি দিয়েছে। এখন আমরা মাঠে থাকি, নেশা থেকে দূরে থাকি।” এছাড়াও চারঘাট উপজেরা বাজারে সি এন জি ইষ্টডে একটি টিউবওয়েল দিয়েছেন যেনো সেখান কার মানুষ ও পথচারীরা পানি ক্ষেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবক আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, । আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে, আমাদের কয়েকজন বন্ধু মিলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম, এই উপজেলার মানুষ আসলেই অনেক কষ্টে আছে। তাদের মৌলিক অধিকারটুকুও তারা পাচ্ছে না। তখন বিভিন্ন ওয়ার্ডের মুরুব্বী ও যুবকরা আমাকে নির্বাচনে আসার জন্য অনুরোধ করেন। যদি মানুষ আমাকে চায়, আমি তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করবো।”
চারঘাট পৌর এলাকার মতো একটি অবহেলিত জনপদে একজন ব্যক্তির এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ এই সমাজসেবকের এমন কর্মকাণ্ড আগামী পৌর নির্বাচনের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

