নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

রাবিতে নবান্ন ও পিঠা উৎসব

নভেম্বর ১৬, ২০২২ ৩:৫৪ 👁️ ৭২ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের কাছে যেতেই চোখে পরে রঙিন সামিয়ানায় ঘেরা একটি ছোট্ট প্যান্ডেল। সামনে সুন্দর করে সাজানো একটি গরুর গাড়ি। সকাল থেকেই সেখানে বহু মানুষের সমাগম। একটু ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ছোট ছোট পিঠার স্টল। স্টলগুলোতে হরেক রকমের পিঠার পসরা সাঁজিয়ে বসে আছেন শিক্ষার্থীরা। পিঠাগুলোর যেমন বাহারি নাম, স্বাদে-গন্ধেও তেমনি অতুলনীয়। দেখতে যেমন চমকপ্রদ, খেতেও তেমন সুস্বাদু। লোভনীয় ও মজাদার সব পিঠা-পুলির উৎসব বসেছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ভবন প্রাঙ্গণে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীবাসীর মধ্যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হবে : ভূমিমন্ত্রী

নবান্ন উৎসব-১৪২৯ উপলক্ষে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের এগ্রোনমী অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগ। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। পরে বিভাগের গবেষণা মাঠে আমন ধান কাটার উদ্বোধন করেন তিনি। দিনটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

অগ্রহায়ণের পহেলা দিনে নবান্নের উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির পুরনো রেওয়াজ। এই দিনে গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চলে নতুন চালের পিঠা খাওয়ার ধুম। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয়ের মত যায়গায় পিঠা খাওয়ার সেই মহোৎসব থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের এই আক্ষেপ পুরণ করে হরেক রকম পিঠার স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে এই পিঠা উৎসব। তাই সকাল থেকেই পিঠার স্টলগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেই ভিড় আরও বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুনঃ  বাঘায় ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় অভিযান,৭ হাজার টাকা জরিমানা

উৎসব অঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মৌচাক পিঠা উৎসব, শ^াশুড়ি মায়ের দোয়া, আরশীনগর, নবান্নের পিঠা সরোবরসহ বাহারি নামের ৮টি স্টল তাদের পিঠার পসরা সাঁজিয়েছে। চন্দ্রপুলি, হৃদয় হরণ, জামাই পিঠা, কুশলী পিঠা, নকশি পিঠা, পাটিসাপটা, দুধপুলি, গোলাপ পিঠা, রসভোরি, বিস্কুট পিঠাসহ বাহারি নামের সব পিঠা। সাথে রয়েছে ফিরনি পায়েস, মোহন ভোগ, দুধ গোকুলসহ নানা ধরনের মিষ্টান্ন।

তবে সব স্টলের চেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের ‘পিঠা পার্বণে অরণ্য-১৯’ নামের স্টলটিতে বেশ ভিড়। ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে কলা পাতায় লেখা ‘পিঠা খান, সিজি (সিজিপিএ) বাড়ান’। পাশে দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে জোড়ে জোড়ে ডাকছেন ‘পিঠা খান, সিজি বাড়ান’, ‘ইশ! না খাইলেই মিস’। লেখাটি শিক্ষার্থীদের বেশ আকর্ষিত করেছে। তাই তারা পিঠা হাতে লেখাটির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন ও মজা করছেন।

ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের বিষয়ে স্টলের স্বত্ত্বাধিকারী এগ্রোনমী অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষার্থী নওশীন বলেন, ‘আমরা সবার চেয়ে একটু ব্যতিক্রমী আয়োজন করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি। সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা সফলও হয়েছি। আমাদের স্টলেই বেশি বিক্রি হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ শিক্ষক দম্পতি গ্রেপ্তার

পিঠা উৎসবে আসা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী রোকাইয়া জান্নাত বলেন, ‘নবান্নের পিঠা উৎসব আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি। বাসা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় আসলে ওইভাবে উৎসব করাও সম্ভব হয় না। তবে বিশ^বিদ্যালয়ের মত একটা যায়গায় অগ্রহায়ণের প্রথম দিনেই এমন উৎসব আসলেই আমাদের সেই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।’

উৎসবের বিষয়ে জানতে চাইলে এগ্রোনমী অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের গ্রামেগঞ্জে আমন ধান কাটার পর নতুন ধানের চাল দিয়ে যে উৎসব হয় তাকেই নবান্ন বলা হয়। আমাদের বিভাগ যেহেতু কৃষির সাথে জড়িত সেহেতু আমরা প্রতিবছর পহেলা অগ্রহায়ণ আমরা এই নবান্ন উৎসবটি পালন করে থাকি। তাই এবারও অগ্রহায়ণের পহেলা দিনেই আমরা এই উৎসবটি পালন করছি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।