নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

অনলাইন জুয়ার ছোবলে বেনাপোল-শার্শায় হারিয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ, সর্বশান্ত হচ্ছে বিভিন্ন পেশার মানুষ

অক্টোবর ১২, ২০২৫ ৩:৪৩ 👁️ ২৫ views
Link Copied!

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : দেশে নতুন আতঙ্কের নাম অনলাইন জুয়া। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে জুয়া বহু পুরনো ও প্রচলিত একটি বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রত উন্নতির সঙ্গে জুয়াও বদলে গেছে। আজকাল অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় অনলাইন জুয়ার প্রতি মানুষের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। কৌতূহল থেকে শুরু করে ‘সহজে আয়’ ভাবনা তরুণ প্রজন্ম নানান অনলাইন জুয়ার সাইটে আকৃষ্ট হচ্ছে। গোপন পদ্ধতিতে পাকা আয়ের সুফল দেখানো হচ্ছে, ফলে শহর-গ্রাম সবার মধ্যে এর বিস্তার দ্রত বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  মোহনপুরে দেশীয় তৈরী ৪৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার

যশোর জেলার শার্শা-বেনাপোলে অনলাইন জুয়া ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রতিদিন হাজারো যুবক অনলাইনে বাজি ধরে নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন, এক ক্লিকে লাখ লাখ টাকা উড়ে যাচ্ছে। কলেজছাত্র থেকে মধ্যবয়স্ক ব্যবসায়ী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছেন। ফুটপাতের চা দোকানি, সেলুনকর্মী, হকার, বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী, বিক্রয়কর্মী, ভবঘুরে, বাস-ট্রাক চালক, সিএনজি চালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুর অনেকেই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় অনলাইনে বাজি ধরায় ব্যস্ত থাকেন। অনেকেরই শুরু হয় এক হাজার টাকা বা আরও বেশি টাকা দিয়ে। পরবর্তী পর্যায়ে তা ১০ হাজার কিংবা তারও বেশি হয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের সব সম্পদ শেষ হয়ে যায়।

শার্শা উপজেলার মোট ১১টি ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য বেনাপোল, বাগআঁচড়া, গোগা, কায়বা, শার্শা, উলাশী, লক্ষণপুর এবং একমাত্র পৌরসভা বেনাপোল। এ অঞ্চলে জুয়ার বিস্তার শহর-গ্রাম ধরে ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনলাইনে হারানো টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাইয়ের পথে নামছে। নাভারন, শার্শা, বেনাপোল ও বাগআঁচড়া এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। কিশোররা জোটবদ্ধ হয়ে গ্যাং গঠন করে রাতে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে সর্বস্ব লুট করছে এই ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কে আছে।

আরও পড়ুনঃ  বাঘায় গরুচুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত ১, চিকিৎসাধীন ১

কলারোয়ার ভূক্তভোগী আনারুল বলেন, বাসে যশোর যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাং চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে আমার কাছে থাকা সব টাকা ছিনিয়ে নেয়। অচেতন অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে নাভারন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এখন আমরা অনিরাপদ জীবন কাটাচ্ছি। আগে চিহ্নিত চোর-ডাকাতদের ভয় ছিল, আর এখন উঠতি বয়সী কিশোররা গ্যাং তৈরি করে একই কায়দায় লুটপাট করছে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকার নেশায় তাদের এই বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে বেনাপোলের আরাফাত রহমান জানান, মোবাইলে জুয়া খেলে টাকা ইনকামের নেশায় কিশোর-তরুণরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। আর সেই টাকার যোগান দিতে গিয়ে তারা চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে আছি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অপরদিকে নিঃস্ব হওয়া যুবক আব্দুল্লাহ জানান, নেশায় পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়েছি। ধার করে খেলেছি এখন দেনার দায়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছি। কেউ টাকা দিতে চায় না। আমরা এখন সব হারিয়ে দিশেহারা।

স্থানীয়রা বলছেন, এ সমস্যা কেবল আর্থিক নয়। সামাজিক নিরাপত্তা, গণপরিবেশ আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরের প্রভাব নিয়েও বড় প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে। জনগণ ও প্রশাসনকে মিলে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ ও পূনর্বাসনমূলক উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে এটাই এলাকার মানুষের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভীকে রাজশাহী নগর বিএনপির শুভেচ্ছা

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত (ওসি) এস আই মানিক কুমার সাহা জানান, অনলাইন জুয়ার ব্যাপারে থানায় কেউ কখনো অভিযোগ করেনি। নানা কারণে সর্বশান্তরা থানায় আসতে ভয় পায়। মোবাইলে জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা তৎপর আছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান, অনলাইন জুয়া আমাদের সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে নানা ধরনের অপরাধ যেমন চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং সক্রিয়তা জড়িত। এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একইসঙ্গে, জনগণকে সচেতন করতে প্রশাসন সভা-সেমিনার, বিদ্যালয়-মাদ্রাসায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং মানুষকে বোঝানো যে অনলাইন জুয়া তাদের পরিবার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।