তথ্যবিবরণী : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশ ও বিশ্বের প্রবীণ নাগরিকদের শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই সময়ে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে এবারের প্রতিপাদ্য ‘The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives’ সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষ একসময় বার্ধক্যে উপনীত হয়। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে পাঁচ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবীণরা শুধু অতীতের সাক্ষী নন; তাঁরা বর্তমানের ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাঁদের শ্রম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রতিটি পরিবারকে প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি প্রবীণদের ভালোবাসা, নিরাপদ বার্ধক্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করাকে সামাজিক অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন এবং ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’-এর সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

