নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

থাইল্যান্ডে বাড়ছে বাংলাদেশিদের ব্যবসা, বড় চ্যালেঞ্জ ভিসা-ব্যয়

অক্টোবর ২০, ২০২৬ ৭:৫৬ 👁️ ১২ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : পর্যটকদের কাছে ভ্রমণের প্রিয় গন্তব্য থাইল্যান্ড। কম খরচে বৈচিত্র্যময় ঘোরাঘুরির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ আছে দেশটিতে। পর্যটকবান্ধব দেশটিতে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি এখন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ভিসা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এই সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসার ধরনও ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে। পর্যটন, ট্রাভেল এজেন্সি, রেস্টুরেন্ট, টেইলারিং ও খুচরা পণ্যের ব্যবসার পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটনকেন্দ্রিক সেবায়ও যুক্ত হয়েছেন কেউ কেউ। তবে ব্যবসার সুযোগ থাকলেও ভিসা নবায়নের ব্যয়, স্থানীয় অংশীদার সংক্রান্ত বিধান, কর্মী নিয়োগের শর্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সামলাতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।

সেখানকার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংকক, পাতায়া ও ফুকেটের মতো পর্যটননির্ভর এলাকায় বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তবে সেখানে ব্যবসা শুরু করা সহজ নয়। ভিসা নবায়নের ব্যয়সহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সামলাতে গিয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নানান ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ‘দু-তিন হাজার’
থাইল্যান্ডে কত সংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জড়িত তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ব্যবসায়ীদের ধারণা এ সংখ্যা দু-তিন হাজারের মতো। পাতায়ায় পর্যটন ও ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা বেশি। এর পরেই ব্যাংককের অবস্থান।

থাইল্যান্ডে মেডিকেল ট্যুরিজম ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সয়া নই ফিট অ্যান্ড ফ্লাইয়ের ব্যবস্থাপক মাজেদুল নয়ন জাগো নিউজকে বলেন, ‘থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য নেই। তবে আমার ধারণা, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ পর্যটন ও ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে পাতায়ায় এ ধরনের ব্যবসা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘পাতায়ায় ১৫ থেকে ২০টি এবং ব্যাংককে ৬ থেকে ১০টি বাংলাদেশি ট্রাভেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যাংকক ও পাতায়া মিলিয়ে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০টির মতো হতে পারে। এছাড়া মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রসাধনী ও অন্য খুচরা পণ্যের ব্যবসায়ও বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

ব্যাংককের অ্যাম্বাসেডর হোটেলের পাশে মনিহারি দোকান রয়েছে বিডি ট্রেডিং কোং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলামের (উজ্জ্বল)। তার দোকানে চকলেট, বিস্কুট, কসমেটিকস, ঘড়ি, লাগজেসহ রয়েছে নানা পণ্য। বিক্রিও হচ্ছে হরদম। কথা হলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ধারণা, ব্যাংকক, ফুকেট ও পাতায়া মিলিয়ে থাইল্যান্ডে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই রেস্টুরেন্ট, পর্যটন, কসমেটিকস, টেইলারিং ও গেস্ট হাউজের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।’

আরও পড়ুনঃ  ক্যানসার চিকিৎসায় প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যে সব ব্যবসায় যুক্ত বাংলাদেশিরা
সময়ের সঙ্গে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ধরন বদলেছে। আগে টেইলারিংয়ের ব্যবসা বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে পর্যটন, ট্রাভেল এজেন্সি, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, কসমেটিকস ও অন্য খুচরা পণ্যের ব্যবসায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

থাইল্যান্ডে ব্যবসা করতে হলে ভিসা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় বুঝে এগোতে হয়। এখানে সহজে এসে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব নয়। নানা ধরনের নিয়ম-কানুন ও বাধা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, বাংলাদেশিরা যেন এখানে ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারেন।-মোরশেদুল আলম
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নানা স্কয়ারের পাশেই কসমেটিকসের বাংলাদেশি দোকান কিউমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোরশেদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘থাইল্যান্ডে ব্যবসা করতে হলে ভিসা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় বুঝে এগোতে হয়। এখানে সহজে এসে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব নয়। নানা ধরনের নিয়ম-কানুন ও বাধা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, বাংলাদেশিরা যেন এখানে ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারেন। বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছি। থাইল্যান্ডে আসা বাংলাদেশিদের ভালো সেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

২০২৩ সালে থাইল্যান্ডে কসমেটিকসের ব্যবসা শুরু করেন মোরশেদুল আলম। তার ভাষ্য, শুরুতে একই জায়গায় ছোট পরিসরে ব্যবসা করলেও ধীরে ধীরে পরিশ্রম ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে ছোট একটা জায়গায় ব্যবসা শুরু করেছিলাম। অনেক সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে ব্যবসাটি বড় করেছি। আগের তুলনায় অনেক বড় পরিসরে কাজ করছি।’

কসমেটিকস থেকে হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুধু একটি পণ্য বা সেবায় সীমাবদ্ধ নেই। কসমেটিকস বিক্রির পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ, দেশে পাঠানো ও চিকিৎসাসেবা সমন্বয়ের কাজও করছেন কেউ কেউ।

বিডি ট্রেডিং কোং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম (উজ্জ্বল) জানান, তাদের ব্যবসার মূল অংশ কসমেটিকসকেন্দ্রিক হলেও গ্রাহকদের জন্য ব্র্যান্ডের পোশাক, জুতা ও মোবাইল ফোনের মতো পণ্যও সংগ্রহ করে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতেও সহযোগিতা করেন তারা।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মূলত কসমেটিকসের ব্যবসা করি। পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী মোবাইল ফোন, ব্র্যান্ডের টি-শার্ট, জুতা ও অন্য পণ্য কিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। হাসপাতালের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে সহযোগিতা করি। এভাবে আমরা একাধিক সেবা দিই।’

মেডিকেল ট্যুরিজমে নতুন সম্ভাবনা
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোর একটি চিকিৎসা পর্যটন বা মেডিকেল ট্যুরিজম। উন্নত চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে যাওয়া রোগীদের হাসপাতাল নির্বাচন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, মেডিকেল ভিসার কাগজপত্র প্রস্তুত, যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিয়ে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সুরা হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন খাতে ব্যবসার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুনঃ  বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ২৫

তিনি বলেন, ‘রোগীর চিকিৎসার ধরন ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী হাসপাতাল নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। থাইল্যান্ডে বিভিন্ন মান ও ব্যয়ের হাসপাতাল রয়েছে। তাই রোগীর প্রয়োজন বিবেচনায় উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা বেছে নিতে হয়।’

সয়া নই ফিট অ্যান্ড ফ্লাইয়ের ব্যবস্থাপক মাজেদুল নয়ন জাগো নিউজকে বলেন, ‘থাইল্যান্ডে আমাদের মেডিকেল ট্যুরিজম ব্যবসা। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে রোগী আসছে। এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় গত কয়েক বছর যারা ভারতে যেতে পারেনি তারাও ব্যাংককে এসেছেন। আর যারা একবার ব্যাংককে চিকিৎসা নিয়েছে তারা এখানেই ধারাবাহিক হয়েছে। ভারতে আর যাচ্ছে না। হৃদরোগ, কিডনি, হাড়ের চিকিৎসক ও বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি আসছেন।’

তবে এ খাতে রোগীর সংখ্যা বা চাহিদা কতটা বেড়েছে, তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা এ খাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও তা এককভাবে সামগ্রিক প্রবণতার প্রমাণ নয়।

খাবারের হোটেল জমজমাট

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা ঘিরে গড়ে উঠেছে বাংলা খাবারের কয়েকটি হোটেল। ব্যাংককের অ্যাম্বাসেডর হোটেল ও আশপাশের এলাকায় এসব হোটেলে বাংলাদেশি খাবার খুঁজতে আসেন প্রবাসী ও ভ্রমণকারীরা। এছাড়া নানা স্কয়ারের পাশেই রয়েছে মা কিচেনসহ একাধিক বাংলা খাবারের হোটেল। এসব হোটেলে সব সময় বাংলাদেশিদের দেখা মেলে।

জানতে চাইলে বাংলা খাবার নামে হোটেলের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আলী আসাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংককে বাংলাদেশিদের পরিচালিত বাংলা খাবারের হোটেল রয়েছে প্রায় সাতটি। প্রতিদিন এসব হোটেলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন বাংলাদেশি খাবার খেতে আসেন। বিশেষ করে অ্যাম্বাসেডর হোটেলের আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশিদের আনাগোনা বেশি।’

তিনি জানান, ব্যাংককের কয়েকটি নির্দিষ্ট সড়ক ও হোটেলকেন্দ্রিক এলাকায় বাংলাদেশি খাবারের হোটেলগুলো গড়ে উঠেছে। লিটল স্পাইসি, বাংলা খাবার, আল হোসাইন, মা কিচেন, স্টার, মনিকা ও টাটকার মতো হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি পর্যটকরা পরিচিত খাবারের স্বাদ পাওয়ার সুযোগ পান।

ভিসা ও প্রশাসনিক নিয়মে বাড়তি চাপ
থাইল্যান্ডে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ভিসা নবায়নের ব্যয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মাজেদুল নয়ন। তার দাবি, ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক বাংলাদেশিকে প্রতিবছর ভিসা নবায়ন করতে হয়।

প্রতি বছর ভিসা নবায়নের জন্য সাড়ে তিন-চার লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ। ব্যবসার অন্য খরচের পাশাপাশি প্রতি বছর এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা অনেকের জন্য কঠিন।-মাজেদুল নয়ন
তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ভিসা নবায়নের জন্য সাড়ে তিন-চার লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ। ব্যবসার অন্য খরচের পাশাপাশি প্রতি বছর এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা অনেকের জন্য কঠিন।’

স্থানীয় অংশীদার রাখার বিষয়টিও ব্যবসার কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে নয়ন বলেন, ‘কিছু ব্যবসায় থাই অংশীদারের ৫১ শতাংশ মালিকানা রাখার শর্ত রয়েছে। ফলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আগে স্থানীয় আইন ও কোম্পানির কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হয়।’

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীনতার পরে প্রথম দুর্গাপূজা, পুরোগ্রামে উৎসবের আমেজ

এছাড়া কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন মাজেদুল নয়ন। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে একজন বিদেশি কর্মীর বিপরীতে চারজন থাই কর্মী রাখার শর্ত রয়েছে। এতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

তবে থাই অংশীদারের মালিকানা ও কর্মী নিয়োগের শর্ত সব ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে একই নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসার ধরন, লাইসেন্স ও আইনি কাঠামো অনুযায়ী এসব নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

নমিনি অংশীদার নিয়ে আইনি ঝুঁকি
থাইল্যান্ডে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় অংশীদারের নামে মালিকানা দেখিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে রাখার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান মাজেদুল নয়ন। তার মতে, স্থানীয় অংশীদার ব্যবসার প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত না থাকলে এ ধরনের ব্যবস্থা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, কাগজপত্রে থাই অংশীদারের নাম থাকলেও তিনি ব্যবসার প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন না। এ ধরনের ব্যবস্থা উদ্যোক্তাদের জন্য আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’

কার্ডে লেনদেনেও সীমাবদ্ধতা
থাইল্যান্ডে ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারেও কিছু সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড সব প্রতিষ্ঠানে গ্রহণ করা হয় না। বড় কিছু হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে এ কার্ড ব্যবহার করা গেলেও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

সুরা হেলথকেয়ারের সিইও মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘থাইল্যান্ডে আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড সব জায়গায় ব্যবহার করা যায় না। বড় কিছু হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে এটি গ্রহণ করা হলেও অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা নেই।’

এছাড়া বিদেশে কার্ড ব্যবহার বা এটিএম থেকে অর্থ তোলার ক্ষেত্রে বিনিময় হার, ব্যাংকের ফি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চার্জের কারণে বাড়তি খরচ হতে পারে। তাই থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে ব্যাংকের আন্তর্জাতিক লেনদেনের নিয়ম ও সম্ভাব্য চার্জ সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সততা ও গ্রাহকের আস্থাই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার ভিত্তি
ব্যবসায়ীদের মতে, থাইল্যান্ডে ব্যবসার সুযোগ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য স্থানীয় আইন মেনে চলা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন জরুরি। বিশেষ করে বিদেশি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ভিসা, লাইসেন্স, মালিকানা ও কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে আগেই পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

মোরশেদুল আলমের মতে, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য ভালো সেবা নিশ্চিত করার দিকেও মনোযোগী হওয়া দরকার। অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম (উজ্জ্বল) জানান, তার ব্যবসায় এখন পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পর্যটন, রেস্টুরেন্ট ও খুচরা পণ্যের বাইরে চিকিৎসাসেবা সমন্বয়ের মতো খাতেও বিস্তৃত হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীর সংখ্যা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব, ভিসা ও প্রশাসনিক ব্যয় ও স্থানীয় আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়গুলো এ বাজারের বাস্তব চ্যালেঞ্জ। সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সঠিক তথ্য, আইনসম্মত বিনিয়োগ ও মানসম্মত সেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।