নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

দুষ্কৃতিকারীদের কোনো দল নেই : ভূমিমন্ত্রী

অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:৪৫ 👁️ ২৮ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘দুষ্কৃতিকারীদের কোনো দল নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা দুষ্কৃতিকারী। দেশের সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কোনো পক্ষই সুবিধা নিতে পারবে না। রাজশাহীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।’

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামেবির উপাচার্যের দপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, ‘যারা এই দেশ, দেশের সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে, তাদের কোনো দল নেই। তারা দুষ্কৃতিকারী। সমাজের জন্য তারা ক্ষতিকর। রাজশাহীতে কোনো মতেই বিশৃঙ্খলা করে কিছু করা যাবে না।’

আরও পড়ুনঃ  স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর

রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আচরণের নিন্দা জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য স্যার এবং তার সহকর্মীদের ওপর যে দুর্ভাগ্যজনক আচরণ করা হয়েছে, এটার নিন্দা করার ভাষা আমার জানা নেই। আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। আপনারা কোনো ভয় পাবেন না।’ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। তবে কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের কথা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান থেকে বহু দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হয়েছেন, যারা দেশে-বিদেশে চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’ রাজশাহীর চিকিৎসকদের দক্ষতার ওপর নিজের আস্থার কথাও জানান তিনি। নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি রাজশাহীতেই চিকিৎসা নিয়েছেন।’

চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের ওপর একসঙ্গে অতিরিক্ত রোগীর চাপ দেওয়া সম্ভব নয়। চিকিৎসাসেবা কার্যকর রাখতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

রামেবির স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়েছে। বড় কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বাড়বে। পুরোনো গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল এলাকায় নতুন গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাছ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নগরের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুনঃ  ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজার ছবি দেখিয়ে যা বললেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

এ সময় রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক ভূমিমন্ত্রীর সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সবসময় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাতেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন। তার এই সহযোগিতা ও আন্তরিকতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

ঘটনার পরপরই ভূমিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয় উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

রামেবির উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান অবকাঠামো তেমন ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার পর এর কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটির অনুমোদনও হয়েছে।’ এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর এবং মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনিসহ সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি ও মণ্ডপ সভাপতিদের সঙ্গে ভূমিমন্ত্রীর মতবিনিময়

এর আগে মঙ্গলবার রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে একটি কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ ওঠে। উপাচার্যের ভাষ্য, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে তার দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তদন্তের অংশ হিসেবে উপাচার্যের কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের দপ্তরের তালা কেটে খোলা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষে প্রবেশ করে আলামত সংগ্রহ করেন এবং উপাচার্য নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল এবং সেটি খুলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপাচার্যকে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।