নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

পুকুর ভাড়া করে পাট জাগ

আগস্ট ৮, ২০২৩ ১:২১ 👁️ ৬০ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পুঠিয়ায় দাম ভালো পাওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাটের বীজ বপন করা হয়। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাট উৎপাদন অনেক ভালো হয়েছে। তবে এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিল শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি টাকায় পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন খাবার পানি উৎপাদনকারীকে জরিমানা

কৃষকেরা বলছেন, পানির অভাবে অনেকের খেতের পাট শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এদিকে অনেকেই পাট জাগ দিতে এখন পুকুর ভাড়া নিচ্ছেন। তবে এবার গত বছরের তুলনায় পুকুরমালিকেরা ভাড়া দ্বিগুণ করেছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সাকলাইন বলেন, চলতি বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাসহ এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট বীজ বপন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমি বেশি।

অপর দিকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ১৫০ টন। এ বছর কৃষকেরা তোষা জাতের পাটবীজ বেশি বপন করেছেন। সেই সঙ্গে উচ্চ ফলনশীল জাতের ৯৮৯৭, জিআরও ৫২৪ রয়েছে। অনেক চাষি ভারত থেকে আমদানি করা কিছু পাটবীজ বপন করেছেন।

তারাপুর এলাকার কৃষক আবুল কালাম বলেন, গত বছর দাম ভালো পেয়ে এবার অনেকে বেশি জমিতে পাটবীজ বপন করেছেন। উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে মাত্রাতিরিক্ত খরার কারণে অনেকের জমিতে পাটগাছ মারা যাচ্ছে। পানি সংকটের কারণে কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  গোমস্তাপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৩ আওয়ামী নেতা

আবুল কালাম বলেন, এখন অনেক চাষি পাট জাগ দিতে পুকুর ভাড়া নিচ্ছেন। তবে গত বছর ১ বিঘা জমির পাট জাগে পুকুর ভাড়া ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর এবার পুকুরমালিকেরা ২ হাজার টাকার ওপর দাবি করছেন।

পৌর সদর এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান জানান, গত বছর ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। আর পাটের বাজারও ভালো পেয়েছিলেন। এ কারণে এবার তিনি ৪ বিঘা জমিতে পাটবীজ বপন করেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না থাকায় তিনি পাট কাটতে পারছেন না।

কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বেশি হওয়ায় এত কাঁচা পাট রিবন মেশিন দিয়ে ছেলানো অনেক সময়ের ব্যাপার। আর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে খাল-বিলে পাট জাগ দেওয়া সহজ ও ব্যয় কম হয়। বলেন কৃষক সাইদুর রহমান।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

 

আশরাফুল ইসলাম নামে সাহবাজপুর এলাকার এক পুকুরমালিক বলেন, বর্ষা মৌসুমে মাছের উৎপাদন অনেক বেশি হয়। আর সেই পুকুরে পাট জাগ দেওয়ার জন্য ভাড়া একটু বেশি পড়বে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাট জাগ পুকুর শোধন করতে অনেক প্রক্রিয়া করতে হয়। এটা অনেক ব্যয়বহুল তাই কৃষকদের কাছ থেকে একটু বেশি টাকা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খ ম জামাল উদ্দীন বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়া চাষিদের জন্য সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। তবে এবার বৃষ্টিপাত অনেক কম। তাই পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকেরা কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন।

এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ প্রক্রিয়া করা যায়। এতে অল্প পানি ও জায়গাতে সহজেই বেশি পরিমাণ পাট জাগ দেওয়া যায়। সাধারণত পুকুর বা জলাশয়ে পাট জাগ প্রক্রিয়া থেকে ২০-২৫ দিন সময় লাগে। আর রিবন রেটিং পদ্ধতিতে জাগ দিলে মাত্র ১০-১২ দিনে হয়ে যায়। এতে পাটের রং ও মান অনেক ভালো হয়।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।