ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুরে পরকীয়ার অভিযোগে এক সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও জোর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
গত রোববার বিকেলে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীডাঙ্গী গ্রামে এ বর্বররচিত ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার নারী ওই গ্রামের এক সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জলিল মোল্যা।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তাঁর হাত ধরে রেখেছেন। চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক কাঁচি দিয়ে তাঁর চুল কাটছেন। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলেও চুল কাটা বন্ধ করা হয়নি। ভিডিওর শেষ দিকে দুই যুবককে ওই নারীর মাথায় ও মুখে আঘাত করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত দুই যুবক হলেন প্রতিবেশী ইউসুফ ব্যাপারীর নাতি সুমন হোসেন ও জয় হোসেন।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে ওই নারী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে রাতে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে মারধর করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন। ওই দিন দিবাগত রাতে তাঁর কক্ষ থেকে এক যুবককে বের হতে দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আটক করেন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এরপর দুজনকে দিনভর আটকে রেখে বিকেলে ওই নারীর চুল কেটে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল জড়িত ব্যক্তিদের আটকে অভিযান শুরু করেছে। তারা মব সৃষ্টি করে আইন হাতে তুলে নিয়েছে। কেউ অপরাধ করলে তাঁর জন্য আইন রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনোই কাম্য নয়। এটি আইনবিরোধী কাজ।

