স্টাফ রিপোর্টার : ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সহনীয় রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়িক বিরোধ বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে ভোক্তাদের জিম্মি করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে।
বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি খাতে সংকট ও দামের ওঠানামা চলছে। জ্বালানি সংগ্রহের উৎসও সীমিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের জন্য এলপিজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) প্রয়োজনীয় আলোচনা ও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করেছে। তাদের সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগামী ৩০ অক্টোবর আবারও অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হবে।
ধর্মঘটের বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে ধর্মঘট করা হলে সংশ্লিষ্ট ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পণ্যের সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বার্থ জড়িত। তাই সরবরাহ ও বিপণনব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ বলবৎ রয়েছে। এ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না।
ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, লাভ-লোকসান, কমিশনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের বক্তব্য শুনে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী। কোনো ব্যবসায়িক বিরোধ বা দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বাজারকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বিইআরসির সচিব, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব এবং এলপি গ্যাস লিমিটেড, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, বেক্সিমকো, ওমেরা ও যমুনাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এলপিজি খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।

