স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গন। এ সফরকে ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে নগরীর উন্নয়ন নিয়েও। রাজশাহীর চলমান উন্নয়নকাজ আরও গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মাহফুজুর রহমান রিটন বললেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে আসছেন। তাঁর আগমন ঘিরে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নগরবাসীও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তিনি আরো বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে রাজশাহীতে আসছেন। এ সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রাসিক প্রশাসক জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তিনি। বেশ কিছু উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। কিছু প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা তাঁর। নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ।
এ ছাড়া কুমারপাড়ার গুলগফুর পেট্রোল পাম্প থেকে বড়কুঠি, বরেন্দ্র জাদুঘর হয়ে ফায়ার ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ উন্নয়ন ও ফুটসাল গ্রাউন্ড নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে সিনিয়র সিটিজেন পার্ক।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর সড়ক যোগাযোগ, খেলাধুলা ও নাগরিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাহফুজুর রহমান রিটন বললেন, অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহীতে স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট ও রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা হেতেমখাঁ-বর্ণালী সড়কের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজও চলছে। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রাসিক প্রশাসক বললেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহী মহানগরীকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রোববার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত খালেক। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

