স্টাফ রিপোর্টার : কম্পিউটারের একটি বাটন চাপতেই আখচাষিদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো সরকারি প্রণোদনার অর্থ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ) বিকাল ৩টা ৩৮ মিনিটে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভা থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি জানালেন, দেশের ১৫টি মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য সরকার মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ সরাসরি কৃষকদের হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বাটন চাপার আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেছেন, তাঁর সামনে থাকা কম্পিউটারের বাটনে চাপ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আখচাষিদের হিসাবে সরকারি সহায়তার অর্থ পৌঁছে যাবে। এরপর তিনি সবাইকে একসঙ্গে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলার আহ্বান জানান। উপস্থিত জনতা তাঁর সঙ্গে ধ্বনি তোলেন। পরে তিনি বাটন চেপে অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত আখচাষিদের নিজেদের মুঠোফোন দেখতে বলেন। তাঁদের ফোনে বার্তা পৌঁছানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যাবে।
এরপর উপস্থিত জনতার সঙ্গে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনি দেন তিনি।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ১৫টি মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে মোট ১২ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। সরকারের এই আর্থিক সহায়তা আখচাষিদের উৎপাদন ব্যয় সামলাতে এবং আখ চাষে উৎসাহ জোগাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের মধ্যে চেক বিতরণ করেন। এ জন্য ১৫ জন আখচাষিকে পর্যায়ক্রমে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রথমে রাজশাহী সুগার মিলের আখচাষি মো. আবু সাঈদ চাঁদকে চেক গ্রহণের জন্য ডাকা হয়।অনুষ্ঠানে সরাসরি কৃষকদের হিসাবে অর্থ পাঠানোর উদ্যোগকে সরকারি সহায়তা বিতরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়।রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় সামরিক বিমানে তিনি রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখান থেকে সরাসরি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের জনসভায় বিকাল ৩টা ২০মিনিটে পৌঁছান। এরপর সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহী নগরীর ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতে ঢাকায় ফেরার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। এক দিনের সফরে তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী।

