নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুরে অবাধে রাতের আঁধারে বন বিভাগের গাছ ও বাঁশ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ভাবিচা বন বিভাগের এসব গাছ ও বাঁশ কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাদকাসক্ত ‘গাছ খেকো’ একটি চক্র এসব গাছ কেটে নিয়ে গেলেও বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে বন বিভাগের ভাষ্য, তাঁরা এই চক্রকে ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে গাছ কাটার ঘটনা অব্যাহত থাকলে একসময় বাগানটি গাছশূন্য হয়ে পড়বে। জীববৈচিত্র্য, প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
বন বিভাগের গাছগুলো রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সম্প্রতি কলেজ শিক্ষার্থী আদনান আহনাফ নিলয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেটি অনেকেই শেয়ার করেছেন। মন্তব্য করেছেন অনেক।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভাবিচা মাঠের পাশে থাকা বড় বড় গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মাঠের চারপাশের গাছপালা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। অথচ এভাবে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া ও চুরি করে বিক্রি করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিলয় এব্যাপারে নিয়ামতপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সেই ফেসবুক পোস্টে মোঃ রবিউল আলম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এক সময় এই মাঠের একপাশ থেকে আরেক পাশ দেখা যাইতো না। আর এখন পুরা ফাঁকা’
শাওন খান নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘একদম ঠিক করে নি। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাঁদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, অক্সিজেনের বড় ভান্ডার বন বিভাগের এই গাছগুলো। গাছের ঝরে পড়া পাতা দিয়ে অনেকের জ্বালানির চাহিদা মেটে। তাছাড়া বাঁশ বাগানে বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে থাকে। রাতের আঁধারে এভাবে অবাধে গাছ ও বাঁশ কাটা চলতে থাকলে বনের গাছ উজাড় হয়ে যাবে। বনের গাছ কেটে নেওয়ার সঙ্গে যারা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিয়ামতপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা দেবাশীষ দে বলেন, ‘ মাদকাসক্ত কিছু ব্যক্তি ভাবিচা বন বিভাগের এসব গাছের ডাল, গাছ ও বাঁশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। মাঝেমধ্যে গাছ কাটার খবর পেয়ে তঁদের ধরতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমরা সেখানে পৌঁছার আগেই গাছ কাটার লোকজন পালিয়ে যায়। কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে অফিসে আসা হয়। তিনি বলেন, গাছ কাটার লোকজনদের ধরার জন্য তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

