নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

আইবিএমের চাকরি ছেড়ে সাইড বিজনেসে আয় ২৪ কোটি টাকা

অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৭:২১ 👁️ ১০ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ ২০ বছর কাজ করেছেন বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএমে। তবে একসময় সেই করপোরেট চাকরিতে আর আগ্রহ খুঁজে পাচ্ছিলেন না বেকি ডিগ্রোসা। ২০০৩ সালে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন নতুন পথচলা। প্রথমে পেশা হিসেবে বেছে নেন থেরাপি, পরে নিজের ওয়েবসাইটের প্রচার করতে গিয়ে পরিচিত হন ডিজিটাল বিপণনের সঙ্গে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই গড়ে তোলেন একটি বিপণন সংস্থা, সেটি ২০২৬ সালের জুনে আয় করেছে ২০ লাখ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইবিএমে কনসালট্যান্ট ও ম্যানেজিং প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করতেন বেকি ডিগ্রোসা। জ্যেষ্ঠ পদে পৌঁছানোর পরও চাকরিতে আগের মতো আগ্রহ পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই ২০০৩ সালে চাকরি ছাড়ার পরের এক বছর কাটান নিজের ভবিষ্যৎ পেশা নির্ধারণের চেষ্টায়।

নেপোলিয়নের গোপন চিঠির রহস্যভেদ করলো এআই, ২০০ বছর পর কী জানা গেলো?নেপোলিয়নের গোপন চিঠির রহস্যভেদ করলো এআই, ২০০ বছর পর কী জানা গেলো?
শেষ পর্যন্ত থেরাপিস্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের জীবনে থেরাপির ইতিবাচক অভিজ্ঞতাও এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে নিজস্ব চর্চা শুরু করেন। থেরাপির কাজ শুরুর পর সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে ওয়েবসাইট তৈরি করেন ডিগ্রোসা। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন, শুধু ওয়েবসাইট থাকলেই হবে না, গুগলে সেটি কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে, তা-ও জানতে হবে।

এজন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ও কনটেন্ট লেখার বিভিন্ন কোর্স করেন তিনি। শেখা কৌশলগুলো নিজের ওয়েবসাইটে প্রয়োগ করেন। এতে আগ্রহী গ্রাহকদের যোগাযোগ বাড়তে শুরু করে। পরে নিজের অভিজ্ঞতা অন্য থেরাপিস্টদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুরু করেন। নিজের থেরাপি অফিসেই ছোট ছোট প্রশিক্ষণ ক্লাসের আয়োজন করতেন ডিগ্রোসা। সেখানে অন্য থেরাপিস্টদের ওয়েবসাইটের প্রচার এবং গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করার পদ্ধতি শেখাতেন। তবে তিনি লক্ষ করেন, অনেকেই প্রযুক্তিগত কাজগুলো নিজেরা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

আরও পড়ুনঃ  কয়েরদাঁড়া খ্রিস্টান পাড়ার প্রধান ফটক ও ইউনিব্লক রাস্তার উদ্বোধন

প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি ডিগ্রোসা। যারা নিজেরা প্রযুক্তিগত কাজ করতে পারছিলেন না, তাদের হয়ে কাজগুলো করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এভাবেই পার্শ্বব্যবসা হিসেবে শুরু হওয়া উদ্যোগটি পরে ‘কাউন্সেলিংওয়াইজ’ নামের বিপণন সংস্থায় রূপ নেয়। সংস্থাটি থেরাপিস্টদের গ্রাহক পেতে সহায়তা করে। এর সেবার মধ্যে রয়েছে ওয়েবসাইট তৈরি, এসইও, কনটেন্ট লেখা, গুগল বিজনেস প্রোফাইল অপটিমাইজেশন এবং গুগল বিজ্ঞাপন পরিচালনা।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সফল হওয়ার ৮ কৌশলকনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সফল হওয়ার ৮ কৌশল
চাহিদা বাড়তে থাকায় থেরাপির চর্চা ও ব্যবসা দুটিই একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত নিজস্ব থেরাপি চর্চা শুরুর চার বছর পর সেটি বন্ধ করে বিপণন সংস্থায় পুরো মনোযোগ দেন তিনি। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরোনো গ্রাহকদের ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন। ডিগ্রোসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে কাউন্সেলিংওয়াইজের বার্ষিক আয় সাত অঙ্কের ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের জুনে সংস্থাটির আয় হয়েছে ২০ লাখ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি রুপি।

আরও পড়ুনঃ  দিল্লিতে আসছে বিশ্বের প্রথম ‘এআই অভিনেত্রী’ টিলি নরউড

গত পাঁচ বছর ধরে সংস্থাটি প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ডলার বা ২ কোটি ৭০ লাখ রুপি মুনাফা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আয়ের প্রায় ৯৯ শতাংশ আসে সরাসরি গ্রাহকদের দেওয়া সেবা থেকে।

ডিগ্রোসা ব্যবসাটির প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ব্যবসা পরিচালনা ও গ্রাহকসেবার সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার সংস্থা বিভিন্ন এসইও কৌশল পরীক্ষা করে দেখে, সেগুলো গ্রাহকদের সার্চ ফলাফলে অবস্থান উন্নত করতে কতটা কার্যকর। সফল কৌশলগুলো পরে নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী প্রক্রিয়ায় পরিণত করা হয়।

কাউন্সেলিংওয়াইজে বর্তমানে প্রায় ৪০-৫০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী কাজ করেন। প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, এমন গ্রাহকদের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করতে পারেন, এমন কর্মী নিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন ডিগ্রোসা। আইবিএমের করপোরেট চাকরি থেকে থেরাপি এবং সেখান থেকে ডিজিটাল বিপণনের ব্যবসা ডিগ্রোসার এই যাত্রা দেখিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অর্জিত দক্ষতাও নতুন ব্যবসার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।