নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

‘প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরই উৎপাদনশীলতার মূল চাবিকাঠি’

অক্টোবর ২, ২০২৬ ১০:৩৭ 👁️ ১০ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, কম সম্পদ ব্যবহার করে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দক্ষতার সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা উভয় খাতেই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অদক্ষ শ্রমশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুনঃ  মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিষাক্ত ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, এখন কী হবে এ নারীর?

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা এগারোটায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস- ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রথাগত ধারণায় শুধু শিল্প উৎপাদনকে উৎপাদনশীলতা মনে করা হলেও প্রকৃতপক্ষে কম সময়ে মানসম্মত সেবা প্রদান এবং সম্পদের অপচয় রোধ করাই আসল উৎপাদনশীলতা। দেশে প্রাকৃতিক বা খনিজ সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিরাট জনগোষ্ঠীই মূল সম্পদ। শ্রমবাজারে অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় একজন দক্ষ শ্রমিকের আয় ও বেতন লক্ষাধিক টাকার উপরে। অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ শ্রমশক্তি বিদেশে প্রেরণ করা সম্ভব হলে বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রেমিট্যান্স অর্জন করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামারি ট্রায়াল কোর্ট পরিচালিত

রাজশাহীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কাজী শহিদুল বলেন, রাজশাহী দেশের ‘ম্যাংগো সিটি’ হিসেবে স্বীকৃত এবং এখানে দেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। রাজশাহীতে একটি ফুড প্রসেসিং জোন (আম ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা) এবং মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হলে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। এছাড়া হাইটেক পার্ক ও পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে উপযোগী প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য ও পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, শিল্পে অটোমেশন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের নতুন কমিটি

এসময় তিনি তরুণদের কেবল চাকুরির পেছনে না ছুটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক।

রাজশাহী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. হাসেন আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী ।

এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।